গোপালগঞ্জ-০৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী জিলানী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্ত্রীর মনোনয়নপত্র জমা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০৪ এএম | ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
গোপালগঞ্জ-০৩ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারই স্ত্রী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এ ঘটনায় পুরো নির্বাচনি এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে পারিবারিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বলে মনে করছেন।
গোপালগঞ্জ-০৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে এস এম জিলানী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার স্ত্রী রওশন আরা সহকারী রিটার্নিং অফিসার জহিরুল আলমের কাছে পৃথকভাবে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। উল্লেখ্য, এস এম জিলানী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার স্ত্রী রওশন আরা গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী। একই ঘর থেকে স্বামী ও স্ত্রীর পৃথক মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতির মাঠে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রওশন আরা বলেন, উনি (এস এম জিলানী) তো দলীয়ভাবে মনোনীত হয়েছেন, আর আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছি। দুটি বিষয় তো সম্পূর্ণ আলাদা। উনি দলের প্রার্থী, আর আমি স্বতন্ত্র। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার তো সবারই আছে।
স্বামীর বিরুদ্ধে ভোট করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়ই বলে দেবে আমি উনার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব কি না। তবে পরিস্থিতি যদি সেই রকম হয়, তাহলে অবশ্যই আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে এস এম জিলানীর সঙ্গে কথা বলেছেন। জিলানীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, নির্বাচন করা প্রত্যেকের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। অনেকেই তো দল ত্যাগ করেও নির্বাচন করেন। তবে যে কারণেই হোক, তিনি (রওশন আরা) মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
শরীফ রফিকুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী রওশন আরা আমাদের জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী। তিনি কেন হঠাৎ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদি তিনি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার না করেন, তবে পরবর্তীতে দলীয়ভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবি/টিকে