ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান এবং ওমান টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে ডিসেম্বরের শেষদিকে। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা বাকি দলগুলোও ১৫ জনের স্কোয়াড ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো কোনো দেশ সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মাধ্যমে দল ঘোষণা করছে, কোনো দেশ ঘটা করে নাম প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করতে পারে আগামীকাল। বিসিবি নির্বাচক প্যানেল স্কোয়াড চূড়ান্ত করে জমা দিয়েছে। আইসিসিকে সেই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই স্কোয়াডে উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাকের আলী না-ও থাকতে পারেন। এ ছাড়া বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদিও বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের সঙ্গে তানভীর ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে।
লজিস্টিক ও বিশ্বকাপের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত এক মাস আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে দল দিতে বলেছে আইসিসি।
আইসিসির তত্ত্বাবধানে দলগুলো হোটেলে ওঠার আগের দিন পর্যন্ত স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে পারবে। বিসিবি চাইলে পুরো দলই বদলে ফেলতে পারবে। সে হিসাবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকবে বলে জানা গেছে। কারণ মূল টুর্নামেন্টের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এ জন্য বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ ভেন্যু ভারতে ২৮ জানুয়ারি পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলবেন লিটন কুমার দাসরা। উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে খেলবে গ্রুপের শেষ ম্যাচ। এই গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল উন্নীত হবে সুপার এইটে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে বিশ্বকাপ হলেও ‘সি’ গ্রুপের দল হওয়ায় লঙ্কা যেতে হচ্ছে না বাংলাদেশকে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশের কন্ডিশন মাথায় রেখে স্কোয়াড সাজিয়েছে নির্বাচক প্যানেল। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতে ভালো করতে পারেননি বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সিরিজগুলোয় কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স করতে দেখা যায়নি ৩১ বছর বয়সী এই স্পিনারকে। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত শেষ দুটি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড) সিরিজে পাঁচ ম্যাচ খেলে চার উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
তবে টি২০ দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে নাসুমের এগিয়ে থাকার কথা। এ মুহূর্তে অটো চয়েসও বলা যেতে পারে নাসুমকে। এর পরও বিকল্প চিন্তা করা হলে সেটা হবে বাজি খেলা। মৌসুম ও কন্ডিশন মাথায় রেখে পাঁচজন পেসার নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সেমি-অলরাউন্ডার আছেন দুজন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও তানজিম হাসান সাকিব। এ দুই পেসার ভালোভাবেই বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় ছিলেন। বিপিএল টি২০ লিগে ভালো করছেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে ভালো খেলছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে ভারতের কন্ডিশন মিলবে না। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে মানিয়ে নিতে হবে তাঁকে। সম্ভাব্য এই দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের ইডেন পার্কে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এই কন্ডিশনে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মুস্তাফিজুর রহমানের। লিটন কুমার দাস শেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১৯ সালে।
টি২০ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ।
আরআই/এসএন