ঝিনাইদহ-২ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনে পেয়েছেন ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া রাশেদ খানের ব্যক্তিগত গাড়ি, বাড়ি, প্লট কিংবা জমি নেই কিছুই। তবে স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও উপহার হিসেবে পাওয়া ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে তার। এছাড়া বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন নির্বাচনী হলফনামায়।
হলফনামায় তিনি নিজের পেশা হিসেবে রাজনীতি ও ব্যবসা এবং স্ত্রীর পেশা গৃহিণী উল্লেখ করেছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী নাম মো. রাশেদ খান, পিতার নাম নবাই বিশ্বাস, মাতার নাম সালেহা খাতুন, স্ত্রীর নাম রাবেয়া আক্তার আলো। গ্রামের নাম মুরারীদহ, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা। যদিও তিনি নির্বাচনে প্রার্থিতার প্রয়োজনে কালীগঞ্জে ভোটার স্থানান্তর করেছেন বলে জানা গেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে (জমাদানের দিন পর্যন্ত) রাশেদ খানের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার আলোর রয়েছে নগদ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ঝিনাইদহ শাখা ও ঢাকা সেনানিবাস শাখায় রাশেদ খানের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা রয়েছে সাত হাজার ৫৮২ টাকা। রাশেদ খাঁনের ৩০ ভরি এবং স্ত্রীর ১০ ভরি সোনা রয়েছে। এসব সোনা উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সোনার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৭ টাকা। যার বর্তমান মূল্য ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ৪১২ টাকা। স্ত্রীর নামে সোনা, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাবপত্র ও উপহারসামগ্রীর অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রাশেদ খানের নামে কোনো স্থাবর সম্পতি বা জমিজমা, প্লট, গাড়ি বা বাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তার স্ত্রীর নামেও কোনো বাড়ি, গাড়ি, জমি বা প্লট নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমাদান তথ্যে তিনি সাড়ে চার লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৫ টাকা। তার নামে কোনো শেয়ার বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত নেই বলে হলফনামায় বলা হয়েছে। এমনকি দেশের বাইরে তার কোনো সম্পদ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার নামে ৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে দুইটি মামলা খারিজ হয়ে গেছে। বাকি তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলায় ঢাকার আদালতে। তার নিজ জেলা ঝিনাইদহ বা নির্বাচনী এলাকা কালীগঞ্জে কোনো মামলা নেই।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ) ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত দাখিল করেছেন ৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, জামায়াতে ইসলাম সমর্থিত আবু তালিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, হেভিওয়েট প্রার্থী। এ তিন প্রার্থী তাদের নির্বাচনি হলফনামায় সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন।
এ আসনে জামায়াতে ইসলাম সমর্থিত প্রার্থী আবু তালিব তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, কৃষি, ব্যবসা ও নিজের চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮২ টাকা। নগদ অর্থের পরিমাণ ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪০ টাকা ও স্ত্রীর আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি উপহার স্বরূপ পেয়েছেন ৫ ভরি স্বর্ণ। বাড়ির আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মোটরযান, কৃষি জমিসহ মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ও স্ত্রীর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫১৪ টাকা। বর্তমানে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ২৯ লাখ ১৫ হাজার ২০৫ টাকা। স্বর্ণ ও এ জাতীয় গহনার পরিমাণ ২২ ভরি। উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন ৪৭.১৯ শতক জমি। আসবাবপত্র ও কৃষিজমিসহ বর্তমানে তার ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে তিনি তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
কেএন/টিকে