যাচাই-বাছাইয়ে বাবা-ছেলের মনোনয়ন দুটিই বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে শেষ দিনে ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত দুজনের মনোনয়ন পত্রই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এইচ. এম. গোলাম রেজা এবং তার ছেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হোসেইন মুহাম্মদ মায়াজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাবা-ছেলের এই ব্যতিক্রমী মনোনয়ন জমা স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়তি আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনে মোট সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলেও বাবা ও ছেলের মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বিষয়টি।

যাচাই-বাছাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিতে অসংগতি পাওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এইচ. এম. গোলাম রেজার মনোনয়নপত্র ঋণ খেলাপির কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে তার ছেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হোসেইন মুহাম্মদ মায়াজের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় দলীয় অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের স্বাক্ষরযুক্ত মনোনয়নপত্র না থাকায় তার দলীয় মনোনয়ন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। এ আসনে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াহেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় হলফনামায় ১ শতাংশ তথ্য সঠিক না থাকায় এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতার জানান, সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ১৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ১০টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।

এবি/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
দেশ গঠনে খালেদা জিয়ার অবদান জাতি যুগ যুগ স্মরণ রাখবে: খন্দকার মোশাররফ Jan 05, 2026
img
ঢাকার দূষিত বাতাসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে সুনিধি Jan 05, 2026
img
সাকিবকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন নাসুম Jan 05, 2026
img
মির্জাপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেপ্তার Jan 05, 2026
img
বাংলাদেশ ভারতে না গেলে কত টাকা ক্ষতি হবে ভারতের? Jan 05, 2026
img
ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ Jan 05, 2026
img
ফিতা কেটে বেঁচে থাকতে চাই না: রিয়েলি Jan 05, 2026
img
পুতিনের বাসভবনে হামলা, বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প Jan 05, 2026
img
মনোনয়ন ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করলেন তাসনিম জারা Jan 05, 2026
img
ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে সেরা পুরস্কার জিতলেন উপস্থাপক জিমি কিমেল Jan 05, 2026
img
গ্রেপ্তার হওয়া সুরভীকে নিয়ে মুখ খুললেন মীর স্নিগ্ধ Jan 05, 2026
img
জুলাইযোদ্ধা সুরভী দ্রুত প্রতিকার পাবে: আসিফ নজরুল Jan 05, 2026
img
‘অন্যান্য দেশও মার্কিন হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে পারে’, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি Jan 05, 2026
img
অভিনেতা দেবসহ পরিবারের ৩ সদস্যকে তলব Jan 05, 2026
ছাত্র অধিকারের পিঠা উৎসবে যা বললেন সাদিক কায়েম Jan 05, 2026
জয় হাতছাড়া দুই জায়ান্টের, ড্রয়ে থামল সিটি ও লিভারপুল Jan 05, 2026
img
গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন: ট্রাম্পকে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী Jan 05, 2026
img
বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনে চ্যালেঞ্জ দেখছেন আকাশ চোপড়া Jan 05, 2026
img
দখলের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন’ Jan 05, 2026
img
চলন্ত ট্রেনের হুক ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন দুই বগি Jan 05, 2026