ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গভীর রাতে শোওয়ার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এক ‘রুদ্ধশ্বাস অভিযানে’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রবেশ করে মার্কিন বাহিনী মাদুরো দম্পতিকে আটক করে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সময় পুরো কারাকাস শহরের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে শহরজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘গতকাল আমেরিকা যা অর্জন করেছে, বিশ্বের আর কোনো দেশ তা পারেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, মাদুরোকে একটি ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ থেকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের জন্য চার দিন ধরে উপযুক্ত সময় ও আবহাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, পুরো অভিযানে মার্কিন বাহিনীর কেউ নিহত হননি। কয়েকজন সামান্য আহত হলেও পরে তাঁরা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, মাদুরোর পদ শূন্য হলেও আপাতত কাউকে সে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রই সিদ্ধান্ত নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মাদুরো আটক হওয়ার খবর জানান ট্রাম্প। তবে মূল অভিযান তারও আগে সম্পন্ন হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানে এফবিআইয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল নেতৃত্ব দেয় বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘অভিযানের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। অসংখ্য দক্ষ সেনা ও কর্মকর্তা এতে অংশ নিয়েছিলেন।’
অন্যদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাজধানীর পাশাপাশি মিরান্ডা ও আরাগুয়া প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গভীর রাতে মাদুরোর প্রাসাদ ঘিরে ফেলে মার্কিন সেনা এবং শোওয়ার ঘরে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায়।