© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির সমাগম

শেয়ার করুন:
৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির সমাগম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০১ এএম | ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। হুগলি জেলার দাদপুর থানার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে আয়োজিত এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ইতোমধ্যে এক ঐতিহাসিক রূপ নিয়েছে। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দান পরিণত হয়েছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায়।

তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে ২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব ইজতেমা চলবে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। 

বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ ও ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে প্রায় ৯ হাজার বিঘা জমিতে গড়ে তোলা ইজতেমা ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। পুরো আয়োজন ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ইজতেমায় অংশ নিতে আসা মুসল্লিরা জানান, ৩৪ বছর পর এই বাংলার মাটিতে এমন বিশাল ইসলামী সমাবেশে অংশ নিতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। শীত উপেক্ষা করে তারা টানা চার দিন ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করবেন।

মুসল্লিদের অভিমত, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করতে এখানে এসেছেন। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) ময়দান পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের সব বিভাগ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

ফিরহাদ হাকিম বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ ধর্মীয় সম্প্রীতির পীঠস্থান। এখানে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

” তিনি আরও জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা যেন কোনো অসুবিধায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলকাতার ডিজি রাজীব কুমার, হুগলি জেলার জেলা শাসক খোরশেদ আলি কাদেরী, জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন, ধনিয়াখালির বিধায়িকা অসীমা পাত্র, সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম, এ কে এম ফারহাদ, দাদপুর থানার ওসি মুন্সী হামিদুর রহমান, মেজবাবু চৌধুরী মজাহার হোসেনসহ প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোহতারম হযরতজি মাওলানা সাদ এবং অন্যান্য আলেম ও মুরব্বিরা বয়ান করবেন। আগামী ৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় চার দিনব্যাপী এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের সমাপ্তি ঘটবে। আয়োজকদের ধারণা, শেষ দিনে প্রায় কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে আয়োজকদের ধারণা ছিল, চার দিনে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির সমাগম হবে। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত গোটা দেশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ মুসল্লির উপস্থিতি ইতোমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও দুই দিন।

এই বিপুল ধর্মীয় জনসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথম দিন, অর্থাৎ জুম্মার দিন থেকেই ইজতেমা ময়দানে মানুষের ঢল নামে। আয়োজকদের হিসাবে, প্রথম দিনেই ১৮ থেকে ২০ লাখের বেশি মুসল্লি সমাবেশে অংশ নেন।

ইউটি/টিএ 

মন্তব্য করুন