ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাকে দিবে বা কোন পক্ষে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশীদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরশহরের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই কথা জানান তিনি।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে তাদের দুঃশাসনের কারণে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এই দায়িত্ব সরকার বা প্রশাসন কেউই নিতে পারবে না। ফলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করতে হচ্ছে। এখন তাদের ভোটাররা কাকে ভোট দিবে বা কোনদিকে যাবে এই সিদ্ধান্ত তাদেরই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র দুনিয়াবী স্বার্থে আজকে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে দেশে ফেতনা-অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। যার ফলস্রুতিতে আজকে বিভিন্ন জায়গায় মব হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগেই ঢাকায় মোবাইল নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিআরটিসি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। দেশে এভাবে সবাই যদি আইন হাতে তুলে নেয়, তাহলে দেশ চলতে পারে না। এভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না।’
চারবারের সাবেক সংসদ বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব আমরা যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি তাদের সবার। রাষ্ট্র-প্রশাসন যারা আয়োজন করছে তাদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। প্রশাসনের দায়িত্বে যারা রয়েছে, তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা একান্ত আবশ্যক। সরকারের যদি স্বদিচ্ছা থাকে, সরকার যদি নির্বাচনে কোনো অনিয়মের অংশীদার না হয়, তাহলে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ এমন নির্বাচন উপহার দেয়া।’
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জানিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এর আগেও তাদের হারিয়েছি। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছোটভাবে দেখতে চাই না। আশা করি, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অতীতে আওয়ামী লীগ আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু নিজেদের অপকর্মের কারণে তারা এখন নেই।’
এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কোনো সহিংসতা নেই। তবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা বির্তকিত করার চেষ্টা হচ্ছে। আশা করি, আগামী নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ-সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হবে। কোনো অনিয়ম হলে তা জনগণের কাছে চিহ্নিত হবে এবং তারা নিন্দিত হবে।’
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা বারেক আলী, জেলা যুবদলের সদস্য ইয়াসিন আরাফাতসহ বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
এসএস/টিকে