অংশীদারিত্ব ওই সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) খসড়া চূড়ান্ত করতে শেষ দফা আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব উপাদান থাকা এই চুক্তি নিয়ে দুই দিনব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিন বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দিনের বৈঠক হবে সিলেটে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে, ইইউর পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাওলা পামপোলিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পিসিএ’র খসড়া চূড়ান্ত করতে শেষ দফা আলোচনায় বসছে ঢাকা-ব্রাসেলস। এই আলোচনা শেষে আগামী জুনের মধ্যে চুক্তিটি সইয়ের দিকে এগোবে উভয় পক্ষ। সেক্ষেত্রে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে যে দল সরকার গঠন করবে, তারাই ব্রাসেলসের এই সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া শেষ করার কথা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের শুরুতে ইইউ ছিল বাংলাদেশের কাছে দাতাগোষ্ঠী (উন্নয়ন অংশীদার), যা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০০১ সালে ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করে বাংলাদেশ। সেই চুক্তিতে অর্থনীতি, উন্নয়ন, সুশাসন কিংবা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। সময়ের ব্যবধানে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে। অবস্থান আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে পিসিএ করার আলোচনা শুরু করে ইইউ। প্রায় বছর দেড়েকের আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
গত বছরের এপ্রিলে ব্রাসেলসে পিসিএর খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য প্রথম দফা আলোচনায় বসেছিল ঢাকা ও ইইউ। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও তিনবার আলোচনায় বসে উভয় পক্ষ। এবার শেষ দফার আলোচনায় বসছে ঢাকা-ব্রাসেলস। বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে ইইউ–বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ব্রাসেলসে ওই অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন উপস্থিত ছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে পিসিএ চুক্তির খসড়া ব্রাসেলস থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এই চুক্তির আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয় মানবাধিকার-বিষয়ক। চুক্তিতে সংযুক্তি, প্রতিরক্ষা, অন্তর্জাল নিরাপত্তা কাঠামোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার মতো উপাদান রয়েছে।
ইউটি/টিএ