শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি নবনির্মিত বাড়িতে হাতবোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে জাজিরা থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছায় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের একটি বোমা বিশেষজ্ঞ দল। তারা লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া ঘরটি থেকে গান পাউডার, জদ্দার কৌটা, মার্বেল, তারকাটা, কসটেপ, পাথরের গুঁড়ো, ধানের তুষ এবং পাউডার মেশানোর ব্লেন্ডারসহ বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। এছাড়া আদালতের নির্দেশে আগে উদ্ধার হওয়া ৪০টি অবিস্ফোরিত বোমাও এদিন বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় ধ্বংস করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে সাগর ব্যাপারীর নবনির্মিত ঘরে বোমা তৈরির সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান ব্যাপারী (৩২) নিহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তার কব্জিসহ হাত উড়ে যায়। গুরুতর আহত নবীন হোসেন (২৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আহত আরও দুইজনের চিকিৎসা চলছে। নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে এবং নবীন হোসেন একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এই দুই পক্ষের সমর্থকরা মাঝেমধ্যেই দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমাদ জানান, হতাহতরা সবাই ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। যে ঘরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক রয়েছেন।
জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম দেওয়ান জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট ওই এলাকায় কাজ করছে।
জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সন্দেহভাজন তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত আলামত ধ্বংসের পাশাপাশি নিরাপত্তার খাতিরে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কেএন/টিকে