অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে ভয়াবহ অ্যাশেজ হারের পরও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। টিঅ্যান্ডটি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ২০২৭ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাশেজ সিরিজকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
অ্যাশেজ সিরিজের শুরুতেই টানা তিন টেস্ট হেরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যে শিরোপা স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। চতুর্থ টেস্টে জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও শেষ ম্যাচে আবারও হারে ইংলিশরা।
এর ফলে প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি— তিনজনই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন। সিরিজ শেষে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে।
তবে এসব নেতিবাচকতার মাঝেও ইতিবাচক দিক দেখছেন অ্যান্ডারসন। ‘এমন বড় ব্যবধানে সিরিজ হারার পর এটা বলা অস্বাভাবিক শোনাতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় এই সিরিজ শেষে ভবিষ্যতের জন্য ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে,’ বলেন অ্যান্ডারসন।
তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের অগ্রগতিকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন। ‘দলে নতুন কিছু সমাধান পাওয়া গেছে। তরুণ খেলোয়াড়রা উঠে আসছে, বোলাররা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। দলটা তরুণ, সামনে আরো সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার আসবে।
অস্ট্রেলিয়াকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। ‘অস্ট্রেলিয়ার অনেক খেলোয়াড়ই বয়সের শেষপ্রান্তে। তাদের বোলিং আক্রমণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেই তুলনায় ইংল্যান্ডের সামনে বিকল্প ও সম্ভাবনা বেশি।’
এদিকে সাবেক ইংল্যান্ড পেসার স্টিভেন ফিন মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে আছেন রব কি।
‘এই সিরিজে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দেখলে রব কি-ই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। তবে তাকে সরানো হবে কি না, সেটা ভিন্ন বিষয়,’ বলেন ফিন।
তবে ফিন মনে করিয়ে দেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ইংল্যান্ড দলের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ‘তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু এখন প্রয়োজন পরিবর্তন ও মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। সেটা থাকলে তাদের দায়িত্বে রাখা উচিত।’
শেষ পর্যন্ত অ্যান্ডারসনের মতও একই। ‘গত ১২ মাস ভালো যায়নি, কিন্তু সমাধান বড় ধরনের পরিবর্তনে নয়। বরং নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি।’
অ্যাশেজে বড় হার সত্ত্বেও তাই ২০২৭ সালের দিকে তাকিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে ইংল্যান্ডশিবির।
এবি/টিকে