জয়ের জন্য শেষ চার বলে প্রয়োজন ১৮। অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন। ভীষণ দুরূহ সেই কাজটিই করে দেখালেন ন্যাডিন ডি ক্লার্ক। শেষ চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় দলকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিলেন এই অলরাউন্ডার।
এমন রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির দেখা মিলেছে ভারতের উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৩ উইকেট হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
নাভি মুম্বাইয়ে শুক্রবার ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ ওভারে বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ১৮ রান, হাতে উইকেট ৩টি। ৪৩ রান নিয়ে স্ট্রাইকে তখন ডি ক্লার্ক।
ইংলিশ পেসার ন্যাট সিভার-ব্রান্টের প্রথম বল লেগ সাইডে খেলে সিঙ্গল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি নেননি। দ্বিতীয় বলেও আসেনি কোনো রান।
তৃতীয় বল জায়গা বানিয়ে দারুণ শটে লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কায় ওড়ান ডি ক্লার্ক। চতুর্থ বলে স্লোয়ার ডেলিভারি পুল করে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। পঞ্চম বল আরেকটি স্লোয়ার, এবার ছক্কা ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে।
শেষ বলে চাই ২ রান। ইয়র্কারের চেষ্টায় ফুল লেংথে করে ফেলেন সিভার-ব্রান্ট, বোলারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মারেন ডি ক্লার্ক, এক ড্রপ খেয়ে বল চলে যায় সীমানার বাইরে, চার।
ব্যাট উঁচিয়ে তখন ছুটছেন ডি ক্লার্ক। তাকে আলিঙ্গনে বাঁধেন উইকেটের সঙ্গী প্রেমা রাওয়াত। ডাগআউট থেকে মাঠে ছুটে আসেন বেঙ্গালুরুর অন্য ক্রিকেটাররা।
বীরোচিত ব্যাটিংয়ের আগে বল হাতেও দলের সফলতম বোলার ডি ক্লার্ক। চার ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার ২৫ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পরে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা তিনি। বোলিং ও ব্যাটিং, দুটিই তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স।
রান তাড়ায় বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা, রিচা ঘোষ, রাধা ইয়াদাভরা ভালো করতে পারেননি। ছয় নম্বরে যখন ব্যাটিংয়ে নামেন ডি ক্লার্ক, ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে দল। একই ওভারে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৬৫। সেখান থেকে প্রায় একার হাতে দলকে জেতালেন ডি ক্লার্ক।
এবি/টিকে