দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি- মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর দেশে এসে আমি বলেছিলাম, যেমন ৬২ বছর আগে মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’, আমি বলেছিলাম ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।’’
‘সেই পরিকল্পনার একটি অংশ হলো দেশের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড। প্রতিটি নারী- যেমন গৃহিণী-একটি করে কার্ড পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়, বরং ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেওয়া হবে এবং এ সময়ে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার এক কার্ড পাবেন। ফ্যামিলি কার্ডের লক্ষ্য হলো নারী সমাজকে সুসংগঠিত ও সশক্ত করা। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবার আছে এবং পরিবারে গড়ে ৫ জন সদস্য ধরা হয়েছে।’
চেয়ারম্যান হিসেবে গত রাতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান আজ দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ সাংবাদিকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা অংশ নেন।
‘সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন মতপার্থক্য আছে। আজ আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের সদস্য ও সমাজের সব মানুষের কাছে বিনীত আহ্বান জানাতে চাই, যাতে আমরা আমাদের পার্থক্যগুলো আলোচনা ও আলাপের মাধ্যমে সমাধান করতে পারি।
আমাদের যে কোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস চালু রাখতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে- জাতীয় পর্যায়ে হোক বা স্থানীয় পর্যায়ে, যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কোনো ট্রেড বডির নির্বাচন। আমার বিশ্বাস, যদি আমরা গণতান্ত্রিক প্রসেস অব্যাহত রাখি, শুরুতে যতই কঠিন আসুক না কেন, এক সময় আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবো।’
‘আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি’
তারেক রহমান বলেন, “কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাই, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্যকে লক্ষ্য করে নয়, বরং আমি আমার চিন্তাভাবনা সবার সামনে তুলে ধরছি। আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি- মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করি।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে রিফর্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই রিফর্মের মধ্যে রয়েছে তিনটি অংশ-সাংবিধানিক বিষয়, আইনগত বিষয় এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা। সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয় নিয়ে আমরা যথেষ্ট আলোচনা করেছি, কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা ও প্রয়োজন-যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ জীবন-নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।
পিএ/টিকে