ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকিকে বিজয়ী করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী হাই স্কুল মাঠে এক আলোচনাসভায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
এম এ খালেক জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার প্রতি সম্মান দেখিয়েই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমাকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলেছেন তারেক রহমান। তিনি খুব বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি আমাকে সম্মানজনক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এম এ খালেক বলেন, ‘জোনায়েদ সাকিকে আমাদের সংসদে পাঠালে আমাদেরই লাভ। তিনি আগামী দিনে মন্ত্রী হতে পারেন। তিনি অনেক ডায়নামিক। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের বাইরে আমি যেতে পারব না। তিনি কথা দিয়েছেন, আমার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়ে পরবর্তীতে সম্মানজনক পদ দেবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল খালেক। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান। এ কারণে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে বাছাইয়ে বাদ পড়ে মেহেদী হাসানের মনোনয়ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এম এ খালেক নির্বাচনী মাঠে থাকলে বিএনপি জোটের প্রার্থীর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠত।
ইউটি/টিএ