ইরানের রাজপথে চলমান গণবিক্ষোভ এখন এক ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী মোড় নিয়েছে। কয়েক দশক নির্বাসনে থাকা ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি এক জরুরি ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের প্রতি সরাসরি শহর দখলের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রচারিত এই বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন আর শুধু রাস্তায় নামা নয়, লক্ষ্য হলো শহরের কেন্দ্রগুলো দখল ও ধরে রাখা।
রেজা পাহলভি তার বার্তায় আগামী দুই দিন দেশজুড়ে আরও কঠোর আন্দোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবারের বিক্ষোভে বিপুল জনসমাগমের প্রশংসা করে তিনি জানান, তিনি নিজেও এখন ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তার বাবা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম পাহলভি পরিবার থেকে এমন সরাসরি ও আক্রমণাত্মক বার্তা এল।
নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন সাময়িকী ‘টাইমস’-এর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০০ মানুষ। নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি সতর্ক করে বলেছেন, সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে বড় ধরনের গণহত্যা চালানোর নীল নকশা করছে। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেও নিহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরান জুড়ে এখন এক থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে বিক্ষোভের মুখে এক চুলও নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না। এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, শহর দখলের এই ডাক আন্দোলনকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।