দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবার ফিরছে পর্দার সেই বহুল চর্চিত প্রেম ও আত্মসংঘাতের গল্প। ইমরান হাসমির অভিনীত আওয়ারাপন-এর দ্বিতীয় অধ্যায় ঘিরে অনুরাগীদের উত্তেজনার মাঝেই আচমকা বদলে যায় মুক্তির পরিকল্পনা। নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যাওয়ায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছিল, সমসাময়িক বড় বাজেটের ছবি ধুরন্ধর টু-এর মুক্তিকে এড়িয়ে যেতেই নাকি সিদ্ধান্ত বদল। তবে সেই সব জল্পনায় স্পষ্ট ভাষায় জল ঢেলে দিয়েছেন পরিচালক মুকেশ ভাট।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছবির মুক্তি পিছোনোর কারণ সম্পূর্ণ বাস্তব ও মানবিক। শুরুতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও ছবির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং এখনও বাকি। সেই কাজ থেমে আছে একটাই কারণে শুটিং চলাকালীন গুরুতর চোট পেয়েছেন ছবির নায়ক ইমরান হাসমি। রাজস্থানে শুটিংয়ের সময় উঁচু লোকেশনে একটি দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে তাঁর পেটে মারাত্মক আঘাত লাগে। আঘাতের জেরে পেটের পেশিতে চিড় ধরে এবং শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসার পরেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়ে। সেই অস্ত্রোপচারের পর ইমরানকে অন্তত পঁয়তাল্লিশ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনওভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। পরিচালক জানান, এই কারণেই এপ্রিল মাসে মুক্তি দেওয়া বাস্তবসম্মত ছিল না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইমরান সুস্থ হয়ে ফিরলেই বাকি শুটিং সম্পূর্ণ করা হবে এবং তারপর মে বা জুন মাসে মুক্তির নতুন দিন ঘোষণা করা হবে।
মুকেশ ভাট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও ছবিকে ভয় পেয়ে মুক্তির তারিখ বদলের প্রশ্নই ওঠে না। ধুরন্ধর টু বা টক্সিক-এর সঙ্গে তুলনা টেনে যে আলোচনা চলছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, ছবির চেয়ে মানুষের শরীর আগে। অভিনেতার সুস্থতা নিশ্চিত করেই কাজ শেষ করা হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, গুরুতর চোট সত্ত্বেও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় ইমরান হাসমি আবার শুটিং ফ্লোরে ফিরেছিলেন। নিজের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর রেখেই তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। সেই পেশাদার মনোভাবই আবারও অনুরাগীদের মনে নতুন করে আস্থা জাগাচ্ছে। সব মিলিয়ে, মুক্তি পিছোলেও আওয়ারাপন টু নিয়ে প্রত্যাশার পারদ কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সেই অপেক্ষাই যেন আরও গভীর হচ্ছে।
আরপি/টিকে