যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার প্রস্তাব ইরানের, ট্রাম্প জানালেন ‘আগে হামলা’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় তিনি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ আলী হোসেইনি খামেনির নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তার সঙ্গে ‌‌‘‘আলোচনার জন্য’’ যোগাযোগ করেছে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ইরানের নেতারা গতকাল ফোন করেছেন। একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে... তারা আলোচনা করতে চান।’’

তবে বৈঠকের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, দেখে মনে হচ্ছে তারা শুরু করেছে এবং এমন কিছু মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের নিহত হওয়ার কথা নয়। আপনি যদি তাদের নেতাদের কথা বলেন, তাহলে তারা সহিংস। আমি জানি না তারা সত্যিই নেতা, নাকি কেবল সহিংসতার মাধ্যমে দেশ শাসন করেন।

তিনি বলেন, ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি দেখছে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর বিকল্প বিবেচনা করছি। আমরা সিদ্ধান্ত নেব। ইরান কোনো ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানাতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আপনি কি আমাকে বলতে বলছেন, তারা কী করবে? আমরা কোথায় আঘাত করব? কখন এবং কোন দিক থেকে আক্রমণ করব?

ট্রাম্প বলেন, আমি ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে ‘‘প্রতি ঘণ্টায়’’ হালনাগাদ তথ্য পাচ্ছি এবং এই বিষয়ে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব।

বিক্ষোভকারীদের নিহত হওয়ার খবর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জনসমাগমের ভিড়ে কিছু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, কিছু বিক্ষোভকারী পদদলিত হয়ে মারা গেছেন। আপনি জানেন, তাদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। আর কিছু মানুষ গুলিবিদ্ধও হয়েছেন। ইরান বা তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা যদি পাল্টা জবাব দেওয়ার চিন্তা করেন, তাহলে আমরা এমন মাত্রায় আঘাত করব, যা তারা আগে কখনো দেখেননি। আর তারা এটা বিশ্বাসই করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিমত্তা ইরানের আগেই বোঝা উচিত। এক সাংবাদিককে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, আপনি কি মনে করেন না তারা আপনার হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়? বছরের পর বছর আমার সঙ্গে যা হয়েছে; সোলেইমানি, আল-বাগদাদি, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিশ্চিহ্ন—এসবের পর?

ইউটি/টিএ


Share this news on:

সর্বশেষ

img
তথ্য প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া: ড. মঈন খান Jan 12, 2026
img
স্কটল্যান্ডে দর্শককেই লাল কার্ড দেখালেন রেফারি Jan 12, 2026
img
হ্যামনেট থেকে অ্যাডোলেসেন্স, গোল্ডেন গ্লোবে কার হাতে কোন পুরস্কার উঠল? Jan 12, 2026
img
পিছনের দরজা দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে: ডা. রফিক Jan 12, 2026
বিএনপিকে ক্ষমতায় চায় ৩৪.৭ শতাংশ ভোটার, জামায়াতকে ৩৩.৬ | টাইমস ফ্ল্যাশ | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ Jan 12, 2026
img
আসিফ নজরুলের নিরাপত্তা বিষয়ক বক্তব্য ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ মন্তব্য আইসিসির! Jan 12, 2026
img
অনন্যা পাণ্ডের তোপের মুখে আলিয়া ভাট, ‘সুযোগসন্ধানী’ আখ্যা Jan 12, 2026
img
২০০৮ সাল থেকেই নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু : শফিকুল আলম Jan 12, 2026
img
কেন বিয়ে করছেন না অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা? জানালেন কারণ Jan 12, 2026
img
এই বছরটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বছর : তৌসিফ Jan 12, 2026
যে জিনিস আপনাকে ধ্বংস করছে | ইসলামিক জ্ঞান Jan 12, 2026
ছক্কা মেরে অর্ধশতক ও সিলেটের জয় নিশ্চিত করলেন ইমন Jan 12, 2026
ভারতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব : আসিফ নজরুল Jan 12, 2026
এল ক্লাসিকো জিতে রেকর্ড বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার বার্সার Jan 12, 2026
img
সবাইকে ভালোবাসা সম্ভব নয় : দেব Jan 12, 2026
img
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শিক্ষা দিয়ে গেছেন খালেদা জিয়া: জোনায়েদ সাকি Jan 12, 2026
img
আদালতের রায়ে স্বস্তি সাইফ আলি খানের Jan 12, 2026
img
মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট Jan 12, 2026
img
তারেক রহমানের সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার সাক্ষাৎ Jan 12, 2026
img
চিন্তাশীল নাগরিক ছাড়া কোনো সমাজ এগোতে পারে না: শিক্ষা উপদেষ্টা Jan 12, 2026