বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান যাঁকে ঘিরে ভারতীয় সিনেমার একাধিক রেকর্ড, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আর নিখুঁত পরিকল্পনার গল্প বারবার উঠে এসেছে তাঁকেই এবার নিজের অফিসে হেনস্তার শিকার হতে দেখল নেটদুনিয়া। প্রথম দেখায় চমকে ওঠার মতো এই ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। কিন্তু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়, এই ‘হেনস্তা’র নেপথ্যে রয়েছে একেবারে পরিকল্পিত রসিকতা আর চমকপ্রদ প্রচার কৌশল।
ঘটনার সূত্রপাত জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী সুনীল গ্রোভারের হাত ধরে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আমির খানের নিখুঁত অনুকরণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সেই অনুকরণই এবার বাস্তবের মঞ্চে এনে ফেললেন সুনীল। খবর অনুযায়ী, তিনি আমির সেজেই ঢুকে পড়েন আমির খানের প্রযোজনা সংস্থার অফিসে। শুধু ঢোকাই নয়, অফিসের কর্মীদের সঙ্গেও আচরণ করতে থাকেন একেবারে মালিকের মতো।
ঠিক সেই সময় প্রযোজক হিসেবে আমিরের সঙ্গে কাজের সূত্রে অফিসে হাজির হন কৌতুকশিল্পী ও পরিচালক বীর দাস। সামনে আমিররূপী সুনীলকে দেখে তিনিও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সেই সুযোগেই সুনীল ‘আমির’ সেজে ছবির প্রশংসা করেন, ভবিষ্যদ্বাণী করেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারের, এমনকি বড় সাফল্যের আশ্বাসও দেন।
পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন আসল আমির খান নিজের চেম্বারে প্রবেশ করেন। সামনে নিজের প্রতিরূপকে দেখে তিনি যেমন বিস্মিত, তেমনই বিরক্ত। কথার কাটাকাটির মধ্যেই পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, নিরাপত্তারক্ষীরা সুনীল গ্রোভারকে অফিস থেকে বের করে দেন। পুরো দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়ে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
অনেকেই ধরে নেন, সত্যিই কি নিজের অফিসে অপমানিত হলেন আমির খান? তবে কিছুক্ষণ পরেই পরিষ্কার হয়, পুরো ঘটনাটিই আসলে আসন্ন ছবি ‘হ্যাপি পটেল’-এর প্রচারের অংশ। ছবিটি প্রযোজনা করছেন আমির নিজেই, পরিচালনায় বীর দাস। নিজের ভাবমূর্তি নিয়েও রসিকতা করতে পিছপা না হওয়াই যেন আবার প্রমাণ করলেন বলিউডের ‘প্রোমোশন গুরু’।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় শুরু হয় হাসি, বিস্ময় আর প্রশংসার বন্যা। কেউ মুগ্ধ সুনীল গ্রোভারের অভিনয়ে, কেউ আবার আমির খানের অভিনব প্রচার কৌশলে। সব মিলিয়ে আবারও প্রমাণ, আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে আমির খানের জুড়ি মেলা ভার।
এমকে/টিএ