ইরানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রাসুলফের উদ্বেগ

ইরানে চলমান ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে সাধারণ নাগরিক ও আন্দোলনকারীরা বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রাসুলফ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক যৌথ পোস্টে  এই দুই নির্মাতা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে মতপ্রকাশ দমনের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ইতিহাস তার সাক্ষী। এমন দমনমূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দেশের জন্য অনুশোচনামূলক পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন তারা।পানাহি ও রাসুলফ বলেন, অভিজ্ঞতা বলে, এমন ব্যবস্থা নেয়া হয় মূলত আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত সহিংসতা আড়াল করার জন্য। আমরা আমাদের নাগরিকদের জীবন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন আমাদের পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের নিয়ে, যারা এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন।



গত মাসের শেষ দিকে ইরানে স্থানীয় মুদ্রার আকস্মিক অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তায় নামা নাগরিকরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এসব বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন।

ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেই খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভের মুখে সরকার কোনোভাবেই পিছু হটবে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, তোমরা গুলি চালাতে শুরু করলে, আমরাও গুলি চালাব। মানবাধিকার কর্মীদের সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩১১ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

নিজেদের বিবৃতিতে পানাহি ও রাসুলফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংগঠন এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, ইরানে যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে এবং সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। বিবৃতির শেষাংশে তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজ নীরব থাকলে ভবিষ্যতে তার জন্য অনুশোচনা করতে হবে ইতিহাস তার সাক্ষ্য দেয়।

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img

প্লট দুর্নীতি মামলা

শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি Jan 13, 2026
img
ইরানে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে Jan 13, 2026
img
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণহানি ৩ জনের Jan 13, 2026
img
নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে: প্রধান উপদেষ্টা Jan 13, 2026
img
জাপানের রেলওয়েতে স্টেশনমাস্টার হলো এক বিড়াল Jan 13, 2026
img
সুন্দরবনে ১০০ কেজি হরিণের মাংসসহ ৪ হাজার মিটার ফাঁদ জব্দ Jan 13, 2026
img
নারায়ণগঞ্জে তুলা কারখানায় আগুন Jan 13, 2026
img
যারা বলেন ‘টেপ টেনিসের বোলার’, তাদেরকে স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে দিলেন সাকলাইন Jan 13, 2026
img
দেশে বন্ধ হয়ে গেলো ৮৮ লাখের বেশি সিম Jan 13, 2026
img
ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন কনস্টেবল মাসুদ Jan 13, 2026
img
গুগলের জেমিনি এআই এবার অ্যাপলের সিরিতে Jan 13, 2026
img
শিরোপা জেতানোর প্রতিশ্রুতিতে অর্থ সংগ্রহ, জেলে দরবেশ Jan 13, 2026
img
ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধেই আইনসভার উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ Jan 13, 2026
img
অস্কারের ভোটিং প্রক্রিয়া শুরু, মনোনীত তালিকা ঘোষণা ২২ জানুয়ারি Jan 13, 2026
img
১ বছরে ‘এক’ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র Jan 13, 2026
img
হঠাৎ সৎ হওয়ার পরিণতির গল্পে নাটক ‘কাঁটা ২’ Jan 13, 2026
img
রিয়াল ছাড়ার পর স্বস্তিতে 'আলোনসো' Jan 13, 2026
img
চৌদ্দগ্রামে দুর্ঘটনার কবলে স্লিপার বাস Jan 13, 2026
img
ইরানে বিরোধীদের সমর্থন করায় ইউরোপের ৪ দেশের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব Jan 13, 2026
img
রেড কার্পেটের আলোয় মুগ্ধতা ছড়ালেন নিক-প্রিয়াঙ্কা Jan 13, 2026