ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা এক হাজার কোটি ডলারের মানহানির মামলাটি খারিজের আবেদন করবে সংবাদমাধ্যমটি।
ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্যানোরমা তথ্যচিত্রে তার ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারিতে দেওয়া বক্তব্য সম্পাদনায় ত্রুটি নিয়ে বিবিসি-র বিরুদ্ধে এই মানহানির মামলা করেন গত মাসে ফ্লোরিডার আদালতে।
আদালতে জমা দেওয়া নথি সোমবার প্রকাশ পেয়েছে। এতে বিবিসি বলেছে, এই মামলার বিচার করার এখতিয়ার নেই ফ্লোরিডার আদালতের নেই। কারণ তথ্যচিত্রটি ফ্লোরিডায় প্রচার করা হয়নি। তাছাড়া এই তথ্যচিত্র প্রচারের পর ট্রাম্পের কোনও ক্ষতি হয়নি। কারণ, তথ্যচিত্রটি প্রচারের পরও তিনি ভোটে বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ১৭ মার্চ সময়সীমার মধ্যে বিবিসি- ট্রাম্পের অভিযোগ খারিজ করার পথে পদেক্ষেপ নেবে।
আদালতের নথিতে বিবিসি এও বলেছে যে, দাবি করেছে, তথ্যচিত্রটি ‘ব্রিটবক্স’ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তা সত্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রিমিং সার্ভিস ব্রিটবক্সে এই তথ্যচিত্র চলেনি। তাই ট্রাম্পের অভিযোগ ধোপে টেকে না।
বিবিসি’র আরও যুক্তি, তথ্যচিত্রটি এক ঘণ্টার ছিল। সেখানে ট্রাম্পের সমর্থকদের বক্তব্যসহ সব পক্ষের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানই প্রচার করা হয়েছে। তাই ট্রাম্প একে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলতে পারেন না। ট্রাম্পের অভিযোগ, বিবিসি ২০২১ এর ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে তার দেওয়া ভাষণের পৃথক কিছু অংশ সম্পাদনার মাধ্যমে একত্রিত করে তার মানহানি ঘটিয়েছে।
ভাষণের একটি অংশে ট্রাম্প তার সমর্থকদের ক্যাপিটলের দিকে মিছিল করে যাওয়ার কথা বলেছিলেন আর অপর অংশে ‘সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই’ করার কথা বলেছিলেন। এই দুই অংশের মাঝখানে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিবিসি ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর’ অংশটি বাদ দিয়ে বাকি দুই অংশ জুড়ে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিবিসি তার মানহানি করেছে এবং ফ্লোরিডার প্রতারণামূলক ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা নিষিদ্ধ করা একটি আইন লঙ্ঘন করেছে। এই দুই অভিযোগের প্রত্যেকটির জন্য তিনি ৫০০ কোটি ডলার করে (মোট ১ হাজার কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
ওই ‘প্যানোরামা’ তথ্যচিত্রে ‘ভুলক্রমে’ বক্তৃতা সম্পাদনা করা হয়েছে বলে স্বীকার করে বিবিসি ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। তারা এও বলেছিল যে, ট্রাম্প সরাসরি সহিংস পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, সম্পাদনার কারণে এমন ভুল ধারণা ছড়ায়।
কিন্তু এ ঘটনায় মামলা করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলেও দাবি করে বিবিসি। তবে ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, “ক্ষমা চাওয়ার পরও বিবিসি তাদের অন্যায়ের জন্য যথাযথ কোনো অনুশোচনা দেখায়নি এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার নৈতিকতা লঙ্ঘন ঠেকাতে অর্থবহ কোনও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনেনি।”
যুক্তরাজ্যের সব টেলিভিশন দর্শকদের উপর বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ফি দিয়ে বিবিসি-র তহবিল যোগানো হয়। এখান থেকে ট্রাম্পকে কোনও অর্থ দেওয়া হলে তা রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে যুক্তরাজ্যের আইনজীবীরা জানান।
ইউটি/টিএ