ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন দেশটির কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইসলামিক রিপাবলিক সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলেছেন।
নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জাফর পানাহি ইংরেজিতে একটি ফটো কার্ট শেয়ার করেন। যেখানে লেখা “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি ফ্যাসিবাদী, হত্যাকারী ও নিষ্ঠুর শাসনব্যবস্থা। গত কয়েক দিনে তারা ইরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এই সহিংসতা শুধু ইরানের জন্য নয়- এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি। এই শাসনব্যবস্থার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয়। এই সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে।”
ফটো কার্টের ক্যাপশনে স্বর্ণপাম জয়ী এই নির্মাতা লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এখনও নিজ দেশের মানুষকেই হত্যা করে চলেছে। প্রতিদিন রাস্তায় মানুষের প্রাণ ঝরছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, কিংবা নতুন কোনো সংকটও নয়- বছরের পর বছর ধরে এমনটাই ঘটে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, সহিংসতা ও দমন–পীড়নের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা কখনোই আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার করা সম্ভব নয়। ইতিহাস বহুবার দেখিয়েছে, এমন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নীরবতা ও উদাসীনতা কেবল অপরাধগুলোকে আরও দীর্ঘায়িত করে।
পোস্টে জাফর পানাহি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, “নীরব থাকা এবং চোখ ফিরিয়ে নেওয়াই এসব অপরাধকে চলতে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।” তিনি বলেন, ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অর্থ হলো- এই বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি দেয়া।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়মুক্তির অবসান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়াই জরুরি। তার পোস্টে হ্যাশ ট্যাগে ক্রাইম এগেনস্ট হিউমিনিটি, ইরান প্রটেস্ট, হিউম্যান রাইটসসহ একাধিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
উল্লেখ্য, জাফর পানাহি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের রাষ্ট্রীয় দমননীতি, সেন্সরশিপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তিন দিন আগেও তিনি ও নির্বাসিত পরিচালক মোহাম্মদ রসুলফ যৌথ বিবৃতিতে ইরানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সহিংসতা আড়াল করার অভিযোগ তুলেছিলেন।
এমকে/টিএ