বছরের শুরুতেই শোকের ছায়া নামল সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে। না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অর্ঘ্য সেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে ৯০ বছর বয়স হয়েছিল এ শিল্পীর।
অর্ঘ্য সেন ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতের অনন্য স্তরের একজন। তার এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় লিখেছেন, ‘বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অর্ঘ্যর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’
মমতা ব্যানার্জি আরও লিখেছেন, ‘তার চলে যাওয়া বাংলা সাংস্কৃতিক জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
প্রখ্যাত এ গায়ক ১৯৩৫ সালের ১১ নভেম্বর এপার বাংলা বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে সখ্যতা ছিল তার। কিশোর বয়সে কলকাতায় যান। বালিগঞ্জ গর্ভনমেন্ট হাইস্কুলে পড়ালেখা করেছেন। স্কুল শেষ করে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক শেষ করেন।
পড়ালেখা শেষ করে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ন্যাশনাল সার্ভে অর্গানাইজেশন-এও কিছুদিন কাজ করেছেন অর্ঘ্য সেন।
ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল। সংগীতে দেবব্রত বিশ্বাসের ছাত্র ছিলেন। রেডিওতে পঙ্কজকুমার মল্লিকের গান শুনে অনুপ্রাণিত হতেন। অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকেও শিক্ষা নিয়েছেন। তবে দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে গানের ভুবন নতুন করে গড়ে উঠে।
অর্ঘ্য সেনের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ভিন্ন মাত্রা পেত। কণ্ঠের বাইরে হাতের কাজেও দারুণ দক্ষ ছিলেন। ভালো সেলাই করতেন। শিল্পী ও শিল্প, উভয় ক্ষেত্রেই অনবদ্য ছিলেন এ তারকা।
এমকে/টিএ