যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ছয়টি পথ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ওমান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে রয়েছে তাদের ঘাঁটি ও স্থাপনা। এই উপস্থিতি অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিনিয়োগকে তুলে ধরলেও, একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে পাল্টা হামলার ঝুঁকিতেও ফেলেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ছয়টি সামরিক বিকল্প

ট্রাম্প যদি সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরান আক্রমণের একাধিক পথ খোলা থাকবে—

১) আকাশপথে হামলা: মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হতে পারে।

২) নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার বা সাবমেরিন থেকে ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হতে পারে।

৩) ড্রোন যুদ্ধ: সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করা হতে পারে, বিশেষ করে রেভল্যুশনারি গার্ডের স্থাপনা বা বিক্ষোভ দমনে জড়িত ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে।

৪) সাইবার যুদ্ধ: ইরানের কমান্ড সিস্টেম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা অচল করতে সাইবার অভিযান চালানো হতে পারে।

৫) গোপন বিশেষ বাহিনী অভিযান: পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় নাশকতা চালাতে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।

৬) লক্ষ্যভিত্তিক অবকাঠামো হামলা: দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হতে পারে, যাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিকল্পের যেকোনোটি প্রয়োগ করলে তা শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। তাদের মতে, বাইরের আক্রমণ ইরানি নেতৃত্বকে জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেওয়ার সুযোগ দেবে, বিক্ষোভ আন্দোলনের বৈধতা দুর্বল করবে এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে অভ্যন্তরীণ সমর্থন সংহত করতে সহায়ক হবে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের কথা তুলেছেন। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কর্তৃত্বও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।



ইউটি/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
মালদ্বীপের পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Jan 15, 2026
img
জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে জোটের নেতারা Jan 15, 2026
img
আকাশসীমা খুলে দিল ইরান Jan 15, 2026
img
শেখ হাসিনার চেয়েও ইসির লোকজন বড় আ. লীগার: বদিউল আলম Jan 15, 2026
img
নির্বাচনে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে দেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হবে : দুদু Jan 15, 2026
img
সিইসির সঙ্গে বৈঠক করতে নির্বাচন ভবনে বিএনপির প্রতিনিধিদল Jan 15, 2026
img
জনগণের চাহিদার কারণেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী, মাঠ ছাড়ব না: খাইরুজ্জামান Jan 15, 2026
img
বিপিএলের প্লে-অফে জায়গা পেতে ৩ দলের সামনে যে সমীকরণ Jan 15, 2026
img
হঠাৎ বেতন কমিশন থেকে পদত্যাগ করলেন মাকছুদুর রহমান Jan 15, 2026
img
দুপুর একটায় হোটেল শেরাটনে প্রেস কনফারেন্সের ডাক, জড়ো হচ্ছেন ক্রিকেটাররা Jan 15, 2026
img
বোন নূপুরকে ‘শ্বশুরবাড়ি’ পাঠিয়ে কৃতি শ্যাননের আবেগঘন বার্তা Jan 15, 2026
img
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক নেতা Jan 15, 2026
img
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি জারি Jan 15, 2026
img
বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক Jan 15, 2026
img
আজ রাতে আমিরাতে পবিত্র মিরাজুন্নবী Jan 15, 2026
img
নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে শোকজ করল বিসিবি Jan 15, 2026
img
বাহরাইনে প্রবাসীর বাসায় পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ইসির ব্যাখ্যা Jan 15, 2026
img
বাড়ি থেকে বের হলেই বিতর্ক, মুখ খুললেন মালাইকা Jan 15, 2026
img
আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র Jan 15, 2026
img
নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে কঠোর অবস্থানে ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ Jan 15, 2026