৪ নভোচারীকে তড়িঘড়ি করে পৃথিবীতে ফেরাল নাসা

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চিকিৎসাজনিত কারণে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) মিশন নির্ধারিত সময়ের এক মাসেরও বেশি আগে শেষ করল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।


গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) একজন অসুস্থ নভোচারী ও তার তিন সহকর্মী পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। তাদের বহনকারী স্পেসএক্স ক্যাপসুল প্রশান্ত মহাসাগরে সান ডিয়েগোর কাছে সফলভাবে অবতরণ করে।

আইএসএস ত্যাগের মাত্র ১১ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই স্প্ল্যাশডাউন সম্পন্ন হয়। পৃথিবীতে পা রাখার পর নভোচারীদের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকেন তারা।

স্প্ল্যাশডাউনের পর নাসার নতুন প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, ‘একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আমরা এই সিদ্ধান্ত (আগাম প্রত্যাবর্তন) নিয়েছি। অসুস্থ নভোচারী বর্তমানে ভালো আছেন, তার মনোবলও ভালো। এখন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে তার।’


নাসা চার নভোচারীকে ফিরিয়ে আনায় এখন আইএসএস-এ মাত্র একজন মার্কিন ও দুইজন রুশ নভোচারী রয়ে গেছেন। নাসা ও স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা চার সদস্যের নতুন একটি নভোচারী দলকে দ্রুত আইএসএস-এ পাঠাবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নতুন দলটি মহাকাশযাত্রা শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পৃথিবীতে ফিরে আসা নভোচারীরা হলেন, নাসার জেনা কার্ডম্যান ও মাইক ফিনকে, জাপানের কিমিয়া ইউই এবং রাশিয়ার ওলেগ প্লাটোনভ। তবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে অসুস্থ নভোচারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

যদিও কক্ষপথে অবস্থানকালে নভোচারীর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল, তবু যথাযথ চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যত দ্রুত সম্ভব তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল নাসা। কর্মকর্তারা জানান, প্রবেশ ও স্প্ল্যাশডাউনের সময় কোনো বিশেষ পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়নি।

স্প্ল্যাশডাউনের এক ঘণ্টার মধ্যে একে একে নভোচারীরা ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তারা ক্যামেরার দিকে হাত নাড়েন। হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল থেকে ক্রুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন আইজ্যাকম্যান।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

আরআই/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img

৫ বছরে সর্বোচ্চ

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা Jan 16, 2026
img
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে মন্তব্য ফিফা প্রেসিডেন্টের Jan 16, 2026
img
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্রকে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জামায়াতের Jan 16, 2026
img
ডেভিল হান্ট ফেইজ-২, রাজধানীতে ৪৯ জন গ্রেপ্তার Jan 16, 2026
img
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তি হওয়া উচিত এবং এটি হবেই: যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত Jan 16, 2026
img
জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাকে নিয়মিত বৈঠকের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিৎ: ভারত Jan 16, 2026
img
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক মেয়র মাহফুজ Jan 16, 2026
img
মালদ্বীপের কাছে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের Jan 16, 2026
img
ইউএনও'কে ‘আপু’ সম্বোধন, আয়োজকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগ Jan 16, 2026
img
ধৈর্যের পরীক্ষাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা: জামায়াতে আমির Jan 16, 2026
বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তার উত্থান পতন থাকলেও শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া সারাজীবন শীর্ষে অবস্থান করেছেন Jan 16, 2026
আগামী নেতৃত্বের প্রতি খালেদা জিয়ার শেষ বাণী ছিলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ Jan 16, 2026
img
নেদারল্যান্ডসের কোচিং দলে দুইবারের ডাচ বর্ষসেরা নিস্টেলরয় Jan 16, 2026
জ্বালানী নিরাপত্তা নিয়ে বেগম জিয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করলেন দেবপ্রিয় Jan 16, 2026
img
নাঈম আমাকে এসে বলছে যে, ডান্স দে ডান্স দে: শরিফুল ইসলাম Jan 16, 2026
img
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন খুবই ‘ক্রিটিক্যাল’: অর্থ উপদেষ্টা Jan 16, 2026
img
ইসিতে সপ্তম দিনের আপিল শুনানিতে ১৮ প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর, নামঞ্জুর ২১ Jan 16, 2026
img
আ.লীগের লোকরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে: প্রেস সচিব Jan 16, 2026
img
শরিফুল ৫ উইকেট পাওয়ার কথা আগেই বলেছিলেন গ্রাউন্ডসম্যান Jan 16, 2026
img
চীন-কানাডার বাণিজ্যে নতুন মোড়, শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত Jan 16, 2026