যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিনেসোটায় চলমান উত্তাল বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি সামরিক বাহিনী মাঠে নামানোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল' এ এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চলতে থাকে কিংবা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা বলে 'ইনসারেকশন অ্যাক্ট' (Insurrection Act) ব্যবহার করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প লেখেন, মিনেসোটার দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরা যদি আইন মানতে ব্যর্থ হয় এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন ও কাস্টমস আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীদের ওপর চলমান আক্রমণ থামাতে না পারে, তবে আমি অবিলম্বে 'ইনসারেকশন অ্যাক্ট' কার্যকর করব।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বেশ উত্তপ্ত। রিপাবলিকান দলীয় নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। শুধু তাই নয়, রাজ্যটিতে বসবাসরত সোমালি বংশোদ্ভূত বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে তিনি অত্যন্ত 'অবমাননাকর' ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প তাদেরকে সমাজের 'আবর্জনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে 'বহিষ্কার' করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন।
মিনেসোটার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে আজ থেকে ঠিক আট দিন আগে। মিনেসোটার প্রধান শহর মিনিয়াপলিসে একজন আইসিই (ICE) কর্মকর্তা রেনি গুড (Renee Good) নামক এক মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেন। ওই একই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার এক নাগরিকও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দা এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে বিক্ষোভের আগুন দ্রুত মিনিয়াপলিস থেকে অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় আন্দোলনকারীরা আইসিই-এর কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ অবৈধ, অতর্কিত এবং হিংসাত্মক হিসেবে অভিহিত করছেন।
ইউটি/টিএ