ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে কঠোর অভিযানের মধ্যে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক এখন বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেও যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠা এই সেবাকে লক্ষ্য করে জ্যামার ও ভুয়া সংকেত ব্যবহার করছে ইরান, যা স্টারলিংকের জন্য অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের সময় প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসা স্টারলিংক সম্প্রতি ইরানে বিনামূল্যে চালু করেছে স্পেসএক্স। এর ফলে মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থানে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কীভাবে স্টারলিংকের সংকেত ব্যাহত করার চেষ্টা করে এবং স্পেসএক্স কীভাবে তা মোকাবিলা করে, সেদিকে নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোসহ চীনও।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরানে বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকার ইন্টারনেট সীমিত করায় সহিংসতার প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্টারলিংক ব্যবহার করে বিক্ষোভ ও দমন অভিযানের ভিডিও বাইরে পাঠাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক রাহা বাহরেইনি জানিয়েছেন, যাচাই করা বহু ভিডিও স্টারলিংকের মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
যদিও ইরানে স্টারলিংক নিষিদ্ধ, তবুও চোরাপথে হাজার হাজার টার্মিনাল ঢুকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংগঠন জানিয়েছে, ইরান স্টারলিংকের সংকেত জ্যাম করার পাশাপাশি ভুয়া জিপিএস সংকেত পাঠিয়ে সংযোগ দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এতে ইন্টারনেটের গতি কমে যাচ্ছে এবং ভিডিও কল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই স্টারলিংক বন্ধে উদ্যোগ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর দেশটির পার্লামেন্ট স্টারলিংক ব্যবহার ও বিতরণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার মাধ্যমেও যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে এই সেবা বন্ধ করতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার ইতিহাসের এই প্রাথমিক পর্যায়ে স্টারলিংকই সবচেয়ে বড় ও কার্যকর সেবা। ফলে দমনমূলক সরকারগুলোর যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রাখার কৌশল ভবিষ্যতে আর কার্যকর নাও থাকতে পারে। ইরানের পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই বড় উদাহরণ হয়ে উঠছে।
ইউটি/টিএ