‘মা কখনো অপশন নয়, বিয়ের আগেও নয়, বিয়ের পরেও নয়!’ বারংবার দেবলীনা একই কথা বলে চলেছেন। অনবরত। স্বামী প্রবাহ নন্দীর প্রতি দেবলীনার অভিযোগ, তিনি নাকি স্বামী ও মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নিতে বলেছিলেন! কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না দেবলীনা। এই টানাপেড়েনের মধ্যে পড়ে জীবন শেষ করার মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি।
এখন তিনি সুস্থ। ফের মঞ্চে চুটিয়ে পারফর্ম করছেন। মা রয়েছেন তাঁর পাশেই। তবে এত কিছু ঘটে গেলেও, স্বামী প্রবাহ কিন্তু যোগাযোগ করেননি এখনো। একেবারে চুপ।
তবে এই প্রথম নয়, ছোটবেলা থেকেই মায়ের অপমানের জবাব দিয়েছেন দেবলীনা। ছোটবেলা থেকে যে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও লড়াইয়ে আজ পরিচিতি পেয়েছেন দেবলীনা, সেই মাকে সবার ওপরে রাখেন তিনি।
দেবলীনার ছোটবেলাটা খুবই অভাব-অনটনে কেটেছিল।
বাবা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায়, অনেক ছোটবেলা থেকেই সংসারের হাল ধরেছিলেন দেবলীনা। মা ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর জীবন লড়াই সহজ ছিল না। ঠিক সেই সময়ই দেবলীনার আশপাশের আত্মীয়সজনের আসল মুখোশ দেখতে পেয়েছিলেন দেবলীনা। কিভাবে তাঁদের লড়াইয়ে কেউ পাশে না দাঁড়িয়ে, নানা কটূক্তি করত, তা আজও ভোলেননি তিনি। দেবলীনার মা খুবই সাধারণ হওয়ায়, নানা গঞ্জনাও সহ্য করতে হতো।
তবে দেবলীনা তখনো চুপ থাকেননি। এখনকার মতো প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন। তাঁর সেই প্রতিবাদী রূপ প্রথম দেখা যায়, প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে বিয়ের ঠিক আগে। বিয়ের আগে দেবলীনা শর্ত রেখেছিলেন তাঁর পরিবারের কাছে। সেই শর্ত মানলে, তবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন, তা স্পষ্ট, বলেও দিয়েছিলেন দেবলীনা।
এই সাক্ষাৎকারে দেবলীনা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আমাদের কঠিন লড়াইয়ের সময় যাদের পাশে পেয়েছিলাম, তাঁরাই আমার বিয়েতে নিমন্ত্রণ পাবে। আর যারা আমাকে, আমার মাকে, বাবাকে অপমান করেছিল, কটূক্তি করেছিল, তারা বিয়েতে আসলে বিয়েই করব না! এরপর ধুমধাম করেই প্রবাহর সঙ্গে বিয়ে হয় দেবলীনার। দেবলীনার কাছের মানুষরাও সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন।
এই সাক্ষাৎকারের দিন দেবলীনার ঠিক পাশেই বসেছিলেন প্রবাহ নন্দী। কিন্তু তখন কে জানত, দেবলীনা এই প্রবাহের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনবেন, হয় মা, নয় স্বামী! বিয়ের পরেও সহ্য করতে হবে মায়ের অপমান! নাহ এবারও দেবলীনা প্রতিবাদ করেছেন। মাকেই রেখেছেন নিজের পাশে।
কেএন/টিকে