ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের সময় ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক ভাষণে খামেনি বলেন, নিহতদের মধ্যে অনেককে ‘অমানবিক ও বর্বর উপায়ে’ হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর জন্য তিনি রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিদাতাদের দায়ী করেন।
শনিবারের ভাষণে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে গিলে ফেলা।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন নিহত হয়েছেন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানান। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন তিনি। এরপর থেকেই বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং অনেক স্থানে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার শাসনের অবসানের দাবি ওঠে।
ইরানি সরকার এসব আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এগুলো আন্তর্জাতিক শত্রুদের মদদে সংঘটিত হচ্ছে।
এদিকে, ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। সাইবার পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার মাত্র প্রায় ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভের খবর কম এলেও, প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার জানিয়েছে, তারা এমন তথ্য পেয়েছে যে, ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমন কোনো হামলা হলে ইরানকে অত্যন্ত শক্তিশালী শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তেহরানকে সতর্ক করে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলা না করতে।
পিএ/টিকে