সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ২২ ও ২৩ জানুয়ারি তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরে আবার বাড়তির দিকেই থাকবে। এভাবে তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও শীতের অনুভূতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এরকম অবস্থা থেকেই চলতি মাস জানুয়ারিতেই শীত বিদায় নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার কেবল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে রেকর্ড করা হয়েছে; সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তিনটি পর্যবেক্ষণ সেন্টার এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকলে তখন শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। সেদিক থেকে নাটকীয়ভাবে দিনরাতের তাপমাত্রা বেড়ে গতকাল থেকে দেশে শৈত্যপ্রবাহ উধাও হয়ে গেছে।
আবহাওয়ার এ অবস্থা ৩০ বছরের মধ্যে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তিন দশকের রেকর্ড পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। সাধারণত জানুয়ারি মাসের এ সময়ে যে ধরনের তাপমাত্রা থাকার কথা তা থেকে দিনের তাপমাত্রা কোনো কোনো এলাকায় দুই থেকে তিন ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, চলতি মাসের প্রথম দিকে টানা কয়েকদিন ঘনকুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের পর গত সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে যে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল তাতে আশপাশ এলাকার বাতাসের জলীয়বাষ্প শোষণ করে নেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে হঠাৎ তাপমাত্রার এ অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই; আবার তাপমাত্রা কমারও তেমন কোনো লক্ষণ নেই। মাঝে দুদিন তাপমাত্রা সামান্য কমলেও আগামী ২৫-২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়ার এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ফেনীতে, ৩০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা আগের দিন রেকর্ড করা হয়েছিল টেকনাফে ২৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপটে মনে হয়েছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রভাব বেশি ও স্থায়ী হতে পারে। কনকনে শীতে কেঁপেছে মানুষ।
পৌষ মাসের হিমেল হাওয়া আর ঘনকুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন ছিল গোটা দেশ, সপ্তাহজুড়েও মেলেনি সূর্যের আলোর দেখা। আরো অন্তত তিনটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে বলে জানিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তরও।
আজ মাঘ মাসের ৪ তারিখ। কথায় আছে ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়’ বাংলার বহুল পরিচিত এ প্রবাদের সঙ্গে প্রকৃতির আচরণে এবার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পৌষের শেষদিকে হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা আর ঘনকুয়াশার দাপট কাটিয়ে মাঘের শুরুতেই প্রকৃতিতে পরিবর্তনের হাওয়া।
সাধারণত দেশে জানুয়ারি মাসেই সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হয়। এরপর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তাপমাত্রায় খানিকটা পরিবর্তন হতে শুরু করে ধীরে ধীরে শীতের বিদায়ে আগমন ঘটে বসন্তের। এ বছর জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপট কিছুটা অনুভূত হলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
তাহলে শীত কি বিদায় নিতে শুরু করেছে এ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলছেন, কয়েকদিন আগে দেশের ৫০ থেকে ৫৪টি জেলায় একসঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে কিন্তু আজকে দেশে কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই। মূলত ঘনকুয়াশা কেটে সূর্যের তাপ বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিনে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরো বাড়তে পারে। ফলে শীতের দাপট আরো কমে আসবে। যদিও দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শীতের কিছুটা প্রভাব থাকবে। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় শীত কমে গেছে, রাজধানীতে আরো দুদিন এমনই থাকার পর দিনের তাপমাত্রা আরো কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী এক সপ্তাহ মোটামুটি এরকমই থাকবে।
আবহাওয়ার এমন হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের ব্যবধানের কথা বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় খুব কম তফাৎ ছিল, মাত্র এক দশমিক ৭ ডিগ্রিতে নেমে এসেছিল। যা ৭৩ বছরের মধ্যে অস্বাভাবিক। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে সে অবস্থা কেটে গিয়ে তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে গেছে।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, চলতি মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরো বেড়ে শীতের অনুভূতি আরো কমে যেতে পারে। শীত বিদায় নিয়েছে না বললেও অনেকটা এরকম অবস্থা থেকেই চলতি মাসে শীত বিদায় নিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিজে/টিএ