হাসপাতালের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী, আর সেই ফেরার পথেই এল তাঁর জন্য এক বড় পেশাগত সুযোগ। প্রযোজক রানা সরকারের প্রযোজনায় মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনীছবিতে অঙ্কিতা মল্লিকের ঠোঁটে দেবলীনার কণ্ঠ শোনা যাবে বলে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ঘোষণার দিন প্রযোজকের দপ্তরে সাদা পোশাকে হাসিমুখে দাঁড়াতে দেখা যায় দেবলীনা ও অঙ্কিতাকে, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন দেবলীনা। পারিবারিক অশান্তির কথা স্বীকার করলেও এখন তিনি নিয়মিত মনোবিদের পরামর্শ নিচ্ছেন এবং পরিবারও তাঁকে মানসিকভাবে আগলে রাখছে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খুব বেশি কথা না বললেও আনন্দবাজারের কাছে তিনি জানান, এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে, তবে এই ছবির গান তাঁর কাছে আপাতত আশার খড়কুটো হয়ে উঠেছে।
মহুয়ার ছবিতে ঠিক ক’টি গান তিনি গাইবেন, কে সুর করবেন কিংবা কবে রেকর্ডিং শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানেন না দেবলীনা। তবু এই সুযোগে শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারও নতুন করে ভরসা ফিরে পেয়েছে। ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেই পুরস্কার মঞ্চে উপস্থিতি এবং এবার ছবিতে নেপথ্যশিল্পী হিসেবে কাজ পাওয়া তাঁর প্রত্যাবর্তনকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
তবে এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে কটাক্ষও কম নয়। সমাজমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ছবিতে গাওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্যই কি সবকিছু নাটক ছিল। দেবলীনা শান্ত গলায় জানিয়েছেন, তিনি এমন নাটক করতে পারেন না, করলে গানের নয়, অভিনয়ের জগতে থাকতেন। তবু তিনি স্বীকার করেন, এতটা জানাজানি না হলেই হয়তো ভালো হতো।
প্রযোজক রানা সরকার অবশ্য দেবলীনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, মহুয়ার জীবনের যন্ত্রণা ও নীরব লড়াইয়ের সঙ্গে দেবলীনার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার মিল আছে, তাই তাঁর কণ্ঠেই সেই আবেগ সবচেয়ে ভালো ফুটে উঠবে। দেবলীনাকে নেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করলে ক্ষতি নেই, বরং তিনি সেটাকে ইতিবাচকভাবেই কাজে লাগাতে চান। এমনকি রসিকতার সুরে তিনি বলেন, দেবলীনা যদি সবটাই নাটক করে থাকেন, তবে ভবিষ্যতে তাঁকে নিয়েই ছবি বানাবেন।
সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত ঝড় সামলে আবারও কাজের ময়দানে দাঁড়াচ্ছেন দেবলীনা নন্দী। নিন্দা, সন্দেহ আর সহানুভূতির মাঝেই তাঁকে প্রমাণ করতে হবে, এই দ্বিতীয় সুযোগকে তিনি কতটা কাজে লাগাতে পারেন।
পিআর/টিকে