ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তে হৃদরোগকে মৃত্যুর কারণ বলা হলেও, তার স্বামী ও অভিনেতা পরাগ ত্যাগী দাবি করেছেন শেফালির মৃত্যুর পেছনে ‘কালো জাদু’ বা কোনো অতিপ্রাকৃত অশুভ শক্তির প্রভাব থাকতে পারে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে পরাগ ত্যাগী তার এই বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে জানান। তিনি বলেন, অনেকে এসব বিশ্বাস না করলেও আমি করি। যেখানে ঈশ্বর আছেন, সেখানে শয়তানও আছে।
পরাগের দাবি, শেফালির জীবনের শেষ কিছু সময়জুড়ে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছিল। তার ভাষায়, এবারের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভয়ংকর। ধ্যানে বসার সময় তিনি বারবার অনুভব করতেন, যেন বড় কোনো অশুভ কাজ হয়ে গেছে।
পডকাস্টে পরাগ একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে এক ব্যক্তির পরামর্শে শেফালি তাদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রাখা একটি ‘পঞ্চমুখী হনুমান’ মূর্তি অন্যত্র সরিয়ে রাখতে তাকে বাধ্য করেন। মূর্তিটি সরানোর পর থেকেই পরাগ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পরে বহু চেষ্টা করেও সেটি আর খুঁজে পাননি।
পরাগের বিশ্বাস, ওই পবিত্র মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই শেফালির সুরক্ষা কবজ নষ্ট হয়ে যায় এবং অশুভ শক্তি তাকে গ্রাস করে। এর কিছুদিন পরেই ঘটে অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু।
তিনি আরও জানান, শেফালির মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর কেউ তাকে আবার একটি পঞ্চমুখী হনুমানজির মূর্তি উপহার দেন। সে সময় তিনি হনুমানজির উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ধন্যবাদ, কিন্তু আপনি অনেক দেরি করে এসেছেন।
পডকাস্টে পরাগ ত্যাগী স্পষ্টভাবে দাবি করেন, তিনি শতভাগ নিশ্চিত যে শেফালির সঙ্গে কেউ খারাপ কিছু করেছে। তার কথায়, যে এই কাজ করেছে এবং যার হাত এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তাকে আমি কোনো দিন ক্ষমা করব না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাত্র ৪২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শেফালি জারিওয়ালা। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হৃদরোগকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সে সময় জানা যায়, শেফালি নিয়মিত কিছু অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন ও ওষুধ গ্রহণ করতেন। চিকিৎসকদের একাংশের ধারণা ছিল, এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তার মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে ছাপিয়ে এখনো অতিপ্রাকৃত তত্ত্বে অনড় রয়েছেন স্বামী পরাগ ত্যাগী, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা।
পিআর/টিকে