কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বামপন্থী একটি গেরিলা গোষ্ঠীর অন্তত ২৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে তারা নিহত হন বলে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সামরিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘর্ষগুলো ঘটে গুয়াভিয়ারে বিভাগের এল রেতোরনো পৌরসভার গ্রামীণ এলাকায়। এলাকাটি রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
এই অঞ্চলটি কোকেন উৎপাদন ও মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সংঘর্ষে জড়ায় কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (ফার্ক)–এর দুটি ভিন্ন গোষ্ঠী। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন নেস্তর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন আলেকজান্ডার দিয়াস মেনদোজা, যিনি ‘কালারকা কর্দোবা’ নামে পরিচিত।
সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এই দুটি গোষ্ঠী আগে ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’ নামে পরিচিত একই জোটের অংশ ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তারা আলাদা হয়ে যায়। নিহত ২৭ জনই ভেরার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সদস্য বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র। মেনদোজার গোষ্ঠীর একজন নেতাও সংঘর্ষ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে দিয়াস মেনদোজার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, ভেরার গোষ্ঠী সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্থগিত হওয়ার পরও সহিংস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুটি গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্য অস্ত্র ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মাদক পাচার ও অবৈধ খনন এই সংঘাতের প্রধান অর্থের উৎস। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পেত্রোর শান্তি উদ্যোগও স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স