গতকাল (রোববার) অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ফাইনালে হয়ে গেল একপ্রস্থ নাটক। নির্ধারিত সময়ের ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে রেফারি মরক্কোকে পেনাল্টি দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনেগাল মাঠ ছাড়ে। প্রায় আধঘণ্টা পর মাঠে নামে তারা। মরক্কো তাদের ঘরের মাঠে ওই পেনাল্টি মিস করে ট্রফি হাতছাড়া করে। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে তিন বছরে দ্বিতীয়বার আফকনের চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। তবে তাদের জয় ছাপিয়ে আলোচনায় যোগ করা সময়ের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, যাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই।
রাবাতে স্বাগতিক মরক্কোর ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় হারের পর রেগরাগুই বলেন, ‘আমরা আফ্রিকান ফুটবলের যে চিত্রটি তুলে ধরেছি তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে, এমন অবস্থায় ১০ মিনিটের বেশি খেলা বন্ধ রাখাটা মোটেও শোভনীয় নয়।’
শেষ অর্ধের ইনজুরি টাইমের একদম শেষ মুহূর্তে গোলশূন্য থাকা অবস্থায় পেনাল্টি পায় মরক্কো। শিরোপা জেতার এটিই ছিল তাদের সুবর্ণ সুযোগ। কঙ্গোর রেফারি জঁ-জ্যাক এনদালা ভিএআর চেক করে সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের একটি ফাউলের বিপরীতে ব্রাহিম দিয়াজকে পেনাল্টি দেন।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে যান। গ্যালারিতে থাকা উত্তেজিত সমর্থকরা মাঠে বস্তু ছুড়তে থাকেন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর দিয়াজ পেনাল্টি শট নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু তার দুর্বল ‘পানেনকা’ শটটি সহজেই রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক।
এরপর ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় এবং পাপে গুয়েইর এক দুর্দান্ত শটে সেনেগাল ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার দিয়াজ সম্পর্কে রেগরাগুই বলেন, ‘পেনাল্টি নেওয়ার আগে সে অনেক সময় পেয়েছিল, যা তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করে থাকতে পারে। কিন্তু যা হয়ে গেছে তা তো আর বদলানো যাবে না। সে ওভাবেই শটটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে।’
মরক্কোর সমর্থকরা ৫০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় এই শিরোপা জয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্টদের জন্য এটি ২০২৪ সালের আফকন-এর পর প্রথম পরাজয়। হারের পরও মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।
এখন মরক্কোকে আগামী জুনে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সেখানে গ্রুপ পর্বে তারা ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতির মুখোমুখি হবে।
২০০৪ সালে মরক্কোর শেষ ফাইনালে খেলোয়াড় হিসেবে খেলা রেগরাগুই বলেন, ‘ফুটবল মাঝে মাঝে খুব নিষ্ঠুর হয়। ফাইনালে সুযোগ খুব কম পাওয়া যায় এবং তা কাজে লাগাতে হয়। শেষ মুহূর্তের ওই পেনাল্টিটি আমাদের শিরোপা জেতাতে পারতো, কিন্তু তা হলো না। আমরা জীবনের একটা বড় সুযোগ হারালাম।’
এসকে/টিকে