সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, গণভোটের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে দেশের সুষ্ঠু পুনর্গঠনে গণভোট অত্যন্ত জরুরি। আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, পৃথিবীর কোথাও একসাথে ভোট ও গণভোট নেওয়ার নজির নেই, এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে। তিনি বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, এখনও দেশে দুর্নীতি বিদ্যমান এবং নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই, আর সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার হল গণভোট। উপদেষ্টা বলেন, ভোট মানে অবাধ অংশগ্রহণ।
রাষ্ট্রের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মানুষ চিরদিনের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে। গণভোট সেই স্থায়ী কাঠামো বাস্তবায়নের মূল মাধ্যম। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, গণভোটের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে দেশের সুস্থ পুনর্গঠনে এটি অত্যন্ত জরুরি।
দেশের আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালের তরুণ ও ২০২৪ সালের তরুণরা একই সুতায় গাঁথা— তারা অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দুটি আন্দোলনেই তরুণ ও নারীদের সম্পৃক্ততা ছিল সবচেয়ে বড়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ৬৪ শতাংশ অংশগ্রহণ ছিল নারীদের। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে- আমাদের মেয়েরা বারবার দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে। তাই নারীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। আলোচনায় অংশ নেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব। বেলা ১টায় সভা শেষে উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কালেক্টরেট চত্বরে গণভোটের মক ভোটিংয়ে অংশ নেন।
এসকে/টিকে