জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে গুম ও এরপরের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আয়নাঘরে একটি ওষুধের মোড়ক দেখে জানতে পারি, এখানে আমার কোডনেম 'ভিআইপি-১'। এরপর যে খাবার দিতে আসে তাকে বলি, আমার খাবারের মান যেন আরও ভালো হয় যেহেতু আমি ভিআইপি। সর্বশেষ জিজ্ঞাসাবাদে আমাকে তারা শিখিয়ে দেয় যেন মুক্তি পেয়ে বলি, আমাকে দুষ্টু লোকেরা কিডনাপ করেছিল। সেখান থেকে আমি পালিয়ে এসেছি।
হুম্মাম কাদের বলেন, তখন তারা বলে, অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার আপনাকে সেকেন্ড চান্স দিতে চান। সেলের ভিতর থেকে একদিন দু'জনের আলাপ শুনতে পাই। তারা বলে, ইহাপে সাকা কা বেটা হ্যে।
তিনি বলেন, মুক্তির পর বাসায় গেলে আমার দারোয়ান আমাকে চিনতে পারছিল না। আমার ওজন কমে গিয়েছিল। চুল-দাড়ি বড় ছিল। কিন্তু আমার পোষা কুকুর আমাকে চিনতে পারে।
সাক্ষ্য দেয়ার সময় ট্রাইব্যুনালে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এই আদালতের কাছে আমার প্রত্যাশা, শেখ হাসিনাসহ দোষিদের বাংলাদেশের মাটিতে এনে বিচার করা হবে।
২০১৬ সালের ৪ আগস্ট বংশাল থানার সামনে থেকে গুমের শিকার হয়েছিলেন তিনি। প্রায় সাত মাস পর ২০১৭ সালের ২ মার্চে ধানমন্ডি ৭/এ এলাকার রাস্তায় রেখে চলে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
এসএস/টিএ