একটা সময় ছিল, সিনেমার গান মানেই ছিল মুখে মুখে ফেরার মতো সুর আর কথার জাদু। তেমনই এক গান ছিল ‘মালকা বানুর দেশে রে’। মুক্তির পর অল্প সময়ের মধ্যেই গানটি ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সিনেমাপ্রেমীদের মুখে মুখে। সুর, কথা আর উপস্থাপনার মেলবন্ধনে গানটি হয়ে উঠেছিল সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি।
জাভেদের সিনেমায় ব্যবহৃত এই গানটি তখনকার দর্শকের কাছে আলাদা করে নজর কেড়েছিল। গানটির কথায় ছিল রোমান্টিক আবেশ, সুরে ছিল লোকজ ছোঁয়া আর পরিবেশনায় ছিল প্রাণবন্ততা। সিনেমার পর্দা ছাড়িয়ে গানটি জায়গা করে নেয় চায়ের দোকান, রেডিও অনুষ্ঠান, বাড়ির আড্ডা আর বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে।
বিশেষ করে গানটির কথার সহজতা আর সুরের পুনরাবৃত্তিযোগ্যতা একে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। অনেকেই সিনেমা না দেখলেও গানটি গুনগুন করে গাইতেন। সেই সময় গান শোনার প্রধান মাধ্যম ছিল রেডিও ও ক্যাসেট। ‘মালকা বানুর দেশে রে’ নিয়মিত বাজত বিভিন্ন জনপ্রিয় অনুষ্ঠানসূচিতে, যা এর জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই গানের মাধ্যমে জাভেদের সিনেমা নতুন করে আলোচনায় আসে। গানটি শুধু বিনোদনের অনুষঙ্গ ছিল না, বরং সিনেমার গল্পের আবেগকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। চরিত্রের অনুভূতি, প্রেম আর আকর্ষণ গানটির মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
সময়ের ব্যবধানে নতুন গান এসেছে, নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে। তবু আজও ‘মালকা বানুর দেশে রে’ শুনলে অনেকের মনে ফিরে আসে সেই সময়ের স্মৃতি। গানটি এখন আর শুধু একটি সিনেমার অংশ নয়, বরং একটি প্রজন্মের আবেগ আর নস্টালজিয়ার প্রতীক।
আজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় গানটির নাম উঠে আসে। প্রমাণ করে দেয়, ভালো গান সময়ের সীমা পেরিয়ে টিকে থাকে মানুষের মনে।
এমকে/টিএ