আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারি বৃষ্টিতে প্রাণ হারাল ৬১ জন

আফগানিস্তানে টানা তিন দিনের তুষারপাত ও ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর এএফপির
আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) প্রকাশিত তথ্য মতে, গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবারের (২৪ জানুয়ারি) মধ্যে দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে এসব প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া একাধিক প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে এএনডিএমএ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ১১০ জন আহত হয়েছেন এবং ৪৫৮টি বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
 
এএনডিএমএর একজন মুখপাত্র জানান, এসব দুর্যোগে অন্তত ৩৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি তুষারাচ্ছন্ন সড়কে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত এড়িয়ে চলতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
 
 তিনি বলেন, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাড়ির ছাদ ধসে পড়া ও তুষারধসের কারণে। এ ছাড়া হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার কারণে অনেক মানুষ মারা গেছেন। কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহ করছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 
 
দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারের জরুরি বিভাগ জানায়, গত বুধবার প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
 
গত বছরের আগস্টের শেষের দিকে এবং এরপর নভেম্বরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পেআঘাত হানে। যার ফলে গ্রামগুলো ধ্বংস হয় এবং ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। এর ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা এখনও পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছে এই অঞ্চলের অধিবাসীরা।
 
 ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুতরা বিশেষ করে তীব্র ঠান্ডা এবং বিরূপ আবহাওয়ার জন্য এখনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গত ডিসেম্বরে ইউনিসেফ জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আনুমানিক ২ লাখ ৭০ হাজার শিশু ‘ঠান্ডাজনিত প্রাণঘাতী রোগের গুরুতর ঝুঁকিতে’ রয়েছে। 
 
বিদেশি সহায়তা না আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় চলতি বছরে আফগানিস্তানে অন্তত দুই কোটি মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। 

পিআর/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০ Jan 25, 2026
img
বলিউডে ছবি না করার কারণ জানালেন সোনাম বাজওয়া Jan 25, 2026
img
ওমরা পালনে সৌদি আরবে মারিয়া মিম Jan 25, 2026
img
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ: রবিন Jan 25, 2026
img
আলোচনার মধ্যেই সৌদিতে ‘বাংলাদেশ’ দলের হয়ে খেললেন সাকিব Jan 25, 2026
img

নির্বাচনী প্রচারণা

জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সভা-সমাবেশ করা যাবে না: ইসি Jan 25, 2026
img
দেশে ফেরা ও বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে সাকিবের মন্তব্য Jan 25, 2026
img
‘সত্যের পক্ষে ছিলাম বলেই ২৪-এর আন্দোলনের পর মুক্ত বাতাস পেয়েছি’ Jan 25, 2026
img
দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা, শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ Jan 25, 2026
img

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে Jan 25, 2026
img
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি : জি এম কাদের Jan 25, 2026
img
এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্য নির্ধারণ করবে : নাহিদ ইসলাম Jan 25, 2026
img
ভোটে চাঁদাবাজ-জমিদারদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীনের Jan 25, 2026
img
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যত প্ল্যানই করি, কিছুই হবে না : তারেক রহমান Jan 25, 2026
img
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া নিয়ে মুখ খুললেন জন্টি রোডস Jan 25, 2026
img
আমি কিভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম, প্রশ্ন মীর স্নিগ্ধের Jan 25, 2026
img
ভয় দেখিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের পতন হাসিনার চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে: সারজিস Jan 25, 2026
img
প্রকৃতি যেন জয়াকে আলাদা করে গড়ে তুলেছে : প্রসেনজিৎ Jan 25, 2026
img
ফরিদপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার Jan 25, 2026
img
দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না : জামায়াত আমির Jan 25, 2026