শুরুতেই গোল হজম করে বেশ চাপে পড়ে যাওয়া বার্সেলোনা ঘুরে দাঁড়াল দ্বিতীয়ার্ধে। আক্রমণের জোয়ারে এফসি কোপেনহেগেনকে একরকম ভাসিয়ে দিয়ে জায়গা করে নিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা আটে।
ঘরের মাঠে বুধবার রাতে ৪-১ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। রবের্ত লেভানদোভস্কি, লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও মার্কাস র্যাশফোর্ড পেয়েছেন জালের দেখা। আট ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে থেকে প্রাথমিক পর্ব শেষ করেছে বার্সেলোনা।
৭৬ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৮টি শট নেয় ফ্লিকের দল, এর ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে কোপেনহেগেনের ৬ শটের কেবল একটিই ছিল লক্ষ্যে। ৩১ নম্বরে থেকে আসর থেকে বিদায় নিল দলটি।
চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যায় কোপেনহেগেন। মোহামেদ এলইউনুসির বাড়ানো বল ধরে, বার্সেলোনার অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগিয়ে যান ভিক্তর দাদাসন। এগিয়ে এসেও শেষরক্ষা করতে পারেননি হোয়ান গার্সিয়া। চমৎকার ফিনিশিংয়ে কাম্প নউকে স্তব্ধ করে দেন ১৭ বছর বয়সী দাদাসন।
একাদশ মিনিটে সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিলেন লেভানদোভস্কি। তার শট ঠিকঠাক ফেরাতে পারেননি কোপেনহেগেন গোলররক্ষক দমিনিক কোতার্স্কি। গোললাইন থেকে হেডে কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন তার এক সতীর্থ।
কয়েক সেকেন্ড পর এরিক গার্সিয়ার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান কোতার্স্কি। পরের মিনিটে দানি ওলমোর শট কোনোমতে পা দিয়ে ঠেকান সফরকারী গোলরক্ষক। একের পর এক আক্রমণে কোপেনহেগেনকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। ৩৪তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন এরিক গার্সিয়া। তার গতিময় শট ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে, পোস্ট ছুঁয়ে ফেরে!
তিন মিনিট পর ডাবল সেভে ব্যবধান ধরে রাখেন কোতার্স্কি। লেভানদোভস্কিকে বলের নাগাল পেতে দেননি গোলরক্ষক। পরে লামিনে ইয়ামালের শট চমৎকার রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন তিনি।যোগ করা সময়ে প্রতি আক্রমণে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান জর্ডান লারসন। তার সঙ্গে লেগে থাকা বার্সেলোনা ডিফেন্ডার কোনোমতে পা বাড়িয়ে শট ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। ৪৮তম মিনিটে ওলমোর বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে যান ইয়ামাল। তার শট ঠেকাতে এগিয়ে এসে হাত-পা ছড়িয়ে স্লাইড করেন কোপেনহেগেন গোলরক্ষক। গোলের জন্য শট না নিয়ে ইয়ামাল খুঁজে নেন পাশেই থাকা লেভানদোভস্কিকে। বাকিটা অনায়াসে সারেন পোলিশ স্ট্রাইকার।
তিন মিনিট পর বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়ে ফের্মিন লোপেস শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। নষ্ট হয় বার্সেলোনার আরেকটি ভালো সুযোগ। কোপেনহেনেগকে প্রবল চাপে রাখা বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ৬০তম মিনিটে। ইয়ামালের শট সফরকারী দলের একজনের হাঁটুতে লেগে একটু উপরে উঠে গিয়ে জড়ায় জালে, কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।
৯ মিনিট পর সফল স্পট কিকে ব্যবধান বাড়ান রাফিনিয়া। ডি বক্সে লেভানদোভস্কিকে প্রতিপক্ষের জুননুসোকে সুজুকি ফাউল করায় পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। ৮৫তম মিনিটে চমৎকার ফ্রি কিকে ব্যবধান আরও বাড়ান র্যাশফোর্ড। তাকেই ফাউল করায় বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেয়েছিল স্বাগতিকরা।
চার মিনিট পর বার্সেলোনার জালে বল পাঠান গাব্রিয়েল পেরেইরা। ভিএআর মনিটরে দেখে অফসাইডের জন্য গোল দেননি রেফারি। যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর তিনটি সুযোগ হাতছাড়া করে বার্সেলোনা। তবে সেরা আটে থাকার আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।
এসএস/টিএ