সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ধ্বংসের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন শিশির মনির। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে নতুনত্ব ফিরিয়ে আনতে না পারলে জনগণ মুখ থুবড়ে পড়বে এবং পুরনো খিস্তিখেউড়ের রাজনীতি দিয়ে আর মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে দিরাইয়ে তার প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, রাজনীতিতে যদি কারও মধ্যে সৃজনশীল প্রবণতা থাকে, পরিকল্পনা থাকে, তবে সেগুলো নিয়েই জনগণের সামনে আসতে হবে। সারা দেশেই এক ধরনের অসহিষ্ণু আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়। দিরাইয়ে কী হয়েছে, কারা করেছে- তা খুঁজে বের করা জরুরি। কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি অস্বীকার করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে কিছুই হয়নি, কিছুই জানা নেই। এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে ভালো কিছু পাওয়া যায় না। একটি ঘটনা ঘটেছে এটা স্বীকার করতেই হবে।
তিনি বলেন, দিরাইয়ে যে প্রচারণাটি চলছিল, সেটি ছিল দেশের চলমান কয়েকটি সৃজনশীল রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যে একটি। একটি গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছিল, মানুষ অংশগ্রহণ করছিল। সেই গাড়ি ভাঙা শুধু একটি যানবাহন ভাঙা নয়, এটি একটি নতুন চিন্তাকে ধ্বংস করার শামিল। এটা যে দলই করুক বা দলের বাইরের কেউ করুক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দলীয় বক্তব্যের বাইরে গিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। প্রকাশ্যে বলতে হবে এটা যেই করুক, আমরা কোনোভাবেই গ্রহণ করি না। উপযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে শিশির মনির বলেন, আজকের দিনে প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেক বিষয়ে সচেতন। রাজনীতির নামে গালাগালি, বকাবকি আর শূন্য আলোচনা দিয়ে সমাজকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে, নতুনত্বের প্রকাশ ঘটাতে হবে। দিরাইয়ের মানুষকে, শাল্লার মানুষকে পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিনির্ভর বিতর্ক হতে পারে, সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।
তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও গিয়ে হুমকি দেওয়া, কোথাও ধর্মভিত্তিক বিভাজন তৈরি করা, আবার কোথাও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। এই ধরনের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। কে সাম্প্রদায়িক, কে অসাম্প্রদায়িক এই তর্কে সমাজ এগোয় না।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যদি আমাদের শিক্ষা না হয়ে থাকে, তাহলে আবারও আগের সবকিছু ফিরে আসবে। সাময়িক উত্তরণের জন্য বড় কিছু নষ্ট করা উচিত নয়। নতুন প্রজন্ম খিস্তিখেউড়ের রাজনীতি চায় না। তারা চায় সোজাসাপ্টা সমাধান এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা।
শিশির মনির বলেন, জটিল সমস্যার সমাধান কীভাবে করবেন এই সক্ষমতা যদি দেখাতে পারেন, তাহলে জনগণ আপনাকে গ্রহণ করবে। আর তা দেখাতে না পারলে, আপনি যে দলেরই হোন না কেন, জনগণ আপনাকে গ্রহণ করবে না।
শেষে তিনি দিরাইয়ে প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে, দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। তবেই বোঝা যাবে, সত্যিকার অর্থে একটি ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। অন্যথায় ধরে নিতে হবে পুরনো ধ্যান-ধারণাই রয়ে গেছে।
এসকে/টিকে