ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যেসব দেশ ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্তির পক্ষে সায় দিয়েছে, সেসব দেশের সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি।
পোস্টে লারিজানি লিখেছেন, ‘ইরানের সংসদে গৃহীত একটি আইনের অধীনে ইইউর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অংশ নেয়া দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইইউ নিশ্চয়ই এ আইন সম্পর্কে অবগত। অতএব, এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পরিণতি সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকেই ভোগ করতে হবে।’
২০১৯ সালের এপ্রিলে ইরানের সংসদে আইআরজিসি সম্পর্কিত একটি আইন পাশ করে। সে আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মতো আইআরজিসিকে যেসব দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করবে, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে বিদেশি মদদপুষ্ট বিক্ষোভকারীদের দমনে দেশটির দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে ইইউ। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইআরজিসির সব সদস্যের সম্পদ জব্দ, অর্থায়ন নিষিদ্ধকরণ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ইইউ’র নিয়মিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসব বিধিনিষেধের মধ্যে ছিলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের শাসনব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য আইআরজিসি গঠন করা হয়। দেশটিতে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে; তারা অর্থনীতির বড় অংশ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির দায়িত্বও এই বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
আইকে/টিকে