শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজনে ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, দেশে ফিরে আসা, নির্বাচনের কথা বলা- এখন তাদেরকে অস্বীকার করছেন, লজ্জা, এটা মেনে নেয়া যায় না। যে উপকার স্বীকার করে না, যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে ভালো মানুষ হতে পারে না।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ব্যাংক ডাকাতি করে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপনারা সেই বাংলাদেশ আবার চান? আপনারা পরিবর্তন চান? পরিবর্তন চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষকে হ্যাঁ ভোটে সিল মারতে হবে।
জামাত আমির বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা কথা দিচ্ছি, জনগণের আস্থা যদি আমাদের ওপর আসে, আমরা আশাবাদী আসবে ইনশাআল্লাহ। আমরা আস্থার প্রতিদান দেবো।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে আপনারা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিবেন।
আরেকদিকে সেই মায়েদের গায়েই আপনারা হাত দিচ্ছেন। আপনারা মা-দেরকে কিভাবে দেখবেন, এখনই বোঝা যাচ্ছে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বুঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামিটা কেমন হবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল, আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন। মেয়েদের গায়ে হাত দেবেন না, অপমান করবেন না কারণ আপনাদেরও মা আছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে আমরা বলেছিলাম, আমরা কারো উপর প্রতিশোধ নেবো না, আমরা নেই নাই। বলেছিলাম মামলাবাজি করবো না, মামলা বাণিজ্যও করবো না। মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করবো না। কিছুই করিনি আমরা।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে এই জোট, এই ঐক্যকে নির্বাচিত করে আমরা কথা রাখবো। প্রথমত আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবো না। পুরনা কাসন্দি নিয়ে কামড়া কামড়ি করবো না। আমরা পেছনের দিকে দৌঁড়াবো না। আমরা যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামি বাংলাদেশ দেখতে চাই।
পরে জামায়াত আমির লক্ষ্মীপুরে চারটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করে দেন। সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এটিএম মাসুম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ঢাকা মহানগর উত্তরে সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়াসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
ইউটি/টিএ