ক্রিকেটে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয় রানে। যে দল বেশি রান করে তারাই জয়ী হয়। ক্রিকেটের এই সাধারণ নিয়ম খাটেনি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির বেলায়। এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশি রান করেও হেরে গেছে। অদ্ভুত এই জয়ে হোয়াইটওয়াশ হওয়া থেকে বেঁচে গেছে ক্যারিবীয়রা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জোহানেসবার্গে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ডাকওয়ার্থ-লুইস ((ডিএল) মেথডে ৬ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এটি ছিল প্রোটিয়াদের প্রথম ‘পিঙ্ক’ টি-টোয়েন্টি। এ গ্রীষ্মে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো ওয়ানডে সিরিজ না থাকায়, স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহের বার্ষিক ম্যাচটি সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়। বজ্রপাতজনিত দীর্ঘ বিলম্বে ম্যাচটির দৈর্ঘ্য কমে প্রথমে কমে ১৬ ওভারে নেমে আসে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস চলাকালীন দ্বিতীয়বার বজ্রপাত হলে আরও ৬ ওভার করে কমিয়ে আনা হয়।
এদিন আগে ব্যাট করে ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রান করা সত্বেও ডিএল মেথডে কাঙ্ক্ষিত রানরেটের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় ৬ রানে হারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও ৭৫ মিনিট দেরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু হয়। খেলা শুরুর ঠিক আগে ফ্লাইওভারের পাইলট বজ্রপাত দেখতে পাওয়ায় এই বিলম্ব হয়। তখন ম্যাচ কমিয়ে ১৬ ওভার করা হয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ আক্রমণাত্মক শুরু করে। শাই হোপ প্রথম বলেই কভার দিয়ে চার মারেন। কিন্তু এনগিডির করা সেই ওভারেই জনসন চার্লস মারতে গিয়ে আউট হন। ৩ বল খেললেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।
হোপ স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাচ্ছিলেন। ক্রিজে এসে তার সঙ্গে যোগ দেন শিমরন হেটমেয়ার। হেলমেট বা ক্যাচ ছাড়াই ফাস্ট বল মোকাবেলা করতে থাকেন তিনি। এনগিডিকে ছক্কা মেরে বল স্ট্যান্ডে পাঠান তিনি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলটি এক দর্শকের কপালে লাগে। এরপর ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার দিয়ে হাঁকান আরেকটি ছয়। কেশব মহারাজের প্রথম ওভার থেকে হোপ নেন ১৮ রান। মার্করাম স্পিনে ভরসা রেখে পঞ্চম ওভারে নিজেই বোলিংয়ে আসেন। হেটমায়ার প্রথম বল কাট করে চার, পরেরটিতে ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছয়, আর ওভারের শেষ বলে হোপ মার্করামকে স্ট্যান্ডে পাঠান।
লিন্ডে নিজের দ্বিতীয় ওভারটিতে রানে বাধ দেন, তবু ছয় ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৬৬/১। এরপর আবার বজ্রপাত দেখা দিলে খেলা বন্ধ হয়। আরও এক ঘণ্টা বিলম্বে ম্যাচ শুরু হলেও দৈর্ঘ্য কমে ১০ ওভারে দাঁড়ায়।
দলীয় ৯১ রানে মহারাজের বলে আউট হন হোপ। তার আগে ২৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৮ রান করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। রোভম্যান পাওয়েলও ৭ বলে ১৩ রান করে আউট হয়ে যান। তবে হেটমেয়ার শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
এনগিডি, মাপাখা ও মহারাজ ১টি করে উইকেট শিকার করেন। সুপারস্পোর্ট পার্কে সেঞ্চুরি করা কুইন্টন ডি কক ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে প্রথম ওভারে ১৯ রান তুলে নেন। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই আকিল হোসেনের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মার্করাম (৪ বলে ২)।
দলীয় ৩৪ রানে ডি কক বিদায় নেন। ১৪ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ২৮ রান করে মোতির বলে আউট হন এই উইকেটকিপার। পরে ষষ্ঠ ওভারে এক বলের বিরতিতে রায়ান রিকেলটন ও দেভাল্ড ব্রেভিসকেও তুলে নেন তিনি। রিকেলটন ৭ বলে ১৫ ও ব্রেভিস ১০ বলে ১৭ রান করেন। ৬ ওভার শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৬৩। জয়ের জন্য বাকি ৪ ওভারে দরকার ছিল ৬২ রান।
৯ বলে ১৭ রান করে লিন্ডে আউট হয়ে যান হোল্ডারের বলে। জেসন স্মিথ প্রথম সাত বলে ২০ রান করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন। শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ২৭ রান। ট্রিস্টান স্টাবস শেষ পাঁচ বলে তা নামিয়ে আনেন ১৫-তে, তারপর স্মিথকে স্ট্রাইক দেন ম্যাচ শেষ করার জন্য।
সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা শামার জোসেফ শেষ ওভারের দায়িত্ব নেন। তিনি ইয়র্কার লেংথে বোলিং করে তৃতীয় বলেই স্মিথের (১০ বলে ২৬) মিডল স্টাম্প ভেঙে দেন, তখন দুই বলে দরকার ছিল ৯। ম্যাচের দ্বিতীয় শেষ বলে বশ আকাশে তুলে দিলে লং-অনে পাওয়েল ক্যাচ ফেলেন; বল মারতে গিয়ে তার ব্যাটও ভেঙে যায়। সুযোগ পেয়ে দৌড়ে রান নেয়ার সময় প্রথম রানটির ক্ষেত্রে তিনি ব্যাট পপিং ক্রিজে ছোঁয়াননি,ফলে এক রান কমে যায়। শেষ বলে দরকার ছিল ৮, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ রানে হেরে যায়। ক্যারিবীয়দের চেয়ে বেশি রান করলেও ডিএল মেথডের অদ্ভুত নিয়মে প্রোটিয়ারা হেরে গেছে।
এসএস/টিকে