রুপার বাজারেও চরম অস্থিরতা, জানুয়ারিতেই ১৪ দফা দাম সমন্বয়

দেশের বাজারে চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে রেকর্ড সংখ্যক ১৪ বার রুপার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। দফায় দফায় দাম বাড়ার ফলে মাসজুড়েই রুপার বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করেছে এবং কয়েকবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

রুপার বাজারে চলছে চরম অস্থিরতা। হঠাৎ করেই দাম উঠে যাচ্ছে রেকর্ড সর্বোচ্চে, আবার হঠাৎ করেই দেখা দিচ্ছে বড় পতন। উত্থান-পতনের বাজারে চলতি বছরের প্রথম মাসেই এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৪ বার। যেখানে দাম ১০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৪ দফা।

​সবশেষ গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফা রুপার দাম কমিয়েছে বাজুস। দুই দিনে যথাক্রমে ভরিতে ৮১৬ টাকা ও ৪৬৭ টাকা কমানো হয়েছে। এতে দুই দিনে মোট ১ হাজার ২৮৩ টাকা কমে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকা।
জানুয়ারির বাজার বিশ্লেষণ

​জানুয়ারি মাসটি শুরু হয়েছিল ১ জানুয়ারি দাম কমার মধ্য দিয়ে। তবে এরপর ৫ জানুয়ারি বাড়ানো হয় রুপার দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি দাম কমিয়ে এই ধাতুর দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৫৪০ টাকা।

তবে এরপরই রুপার বাজারে দেখা দেয় টানা উত্থান। ১২, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৪ দফা বাড়ানো হয় দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে ঠেকে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। এর মধ্যে ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি দাম বেড়ে প্রতিবারই দেশে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।

গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। তারপর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর ফের ২৫, ২৬ ও ২৯ জানুয়ারি টানা বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। প্রতিবারই তৈরি হয় নতুন রেকর্ড। গত ২৯ জানুয়ারি ৮১৬ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা।

তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। ​বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে রুপার দামের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের কারণেই বারবার দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পিএ/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
আমাকে কেন দাবার ঘুঁটি বানানো হচ্ছে- প্রশ্ন সিডনি সুইনির Feb 01, 2026
img
বিতর্কের মাঝেও বক্স অফিসে ঝড় তুলল মেলানিয়া ট্রাম্পের তথ্যচিত্র Feb 01, 2026
img
দ্বিতীয় দিনের মতো শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট, অচল চট্টগ্রাম বন্দর Feb 01, 2026
img
কোনো ভয়ভীতির কাছে মাথা নত করবো না: হাসনাত আবদুল্লাহ Feb 01, 2026
img
ব্যাংক ডাকাতদের সঙ্গে যুদ্ধে জনগণের বিজয় হয়েছে : হাসনাত আবদুল্লাহ Feb 01, 2026
img
নাঈম ও শাবনাজের মতোই প্রেম করে বিয়ে করলেন বড় মেয়ে মাহাদিয়া Feb 01, 2026
img
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ Feb 01, 2026
img
জামায়াতে আমিরের পোস্ট নিয়ে শাওনের মন্তব্য Feb 01, 2026
img

এপস্টেইন ফাইলসে তথ্য

ইমরান খানকে ‘লন্ডন সোসাইটি লায়ন’ আখ্যা জাতিসংঘের কর্মকর্তার Feb 01, 2026
img
ঢাকা উত্তরের প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিল আদালত Feb 01, 2026
img

মানবতাবিরোধী অপরাধ

আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় ৫ ফেব্রুয়ারি Feb 01, 2026
img
জামায়াত আমিরের ফেসবুক আইডি হ্যাকের দাবি কতটুকু যৌক্তিক? : মাহাদি আমিন Feb 01, 2026
একজন শিল্পীর আর্তনাদ: বিনোদন জগতের বর্তমান দুরবস্থার পেছনের গল্প Feb 01, 2026
কিষানের সেঞ্চুরির পর আর্শদিপের পাঁচ উইকেট, সিরিজ জিতল ভারত Feb 01, 2026
img
জার্মানির বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন! Feb 01, 2026
img
সম্প্রতি বিতর্কে সায়কের বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের! Feb 01, 2026
img
ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান Feb 01, 2026
img
অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের Feb 01, 2026
img
জামায়াত আমিরের ‘এক্স অ্যাকাউন্ট’ হ্যাকড, থানায় জিডি Feb 01, 2026
img
ঋণখেলাপিদের জন্য পরবর্তী বাংলাদেশ জাহান্নাম বানিয়ে দেব : হাসনাত Feb 01, 2026