ভেনেজুয়েলায় প্রায় সাত বছর পর আবারও কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে দেশটিতে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শীর্ষ দূত লরা এফ. ডোগু।
শনিবার রাজধানী কারাকাসে পৌঁছানোর তথ্য তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান।
একটি পোস্টে লরা ডোগু বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছি।
আমার দল ও আমি কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।’ পোস্টের সঙ্গে বিমান থেকে নামা ও রানওয়েতে হাঁটার দুটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, লরা ডোগু সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে কাজ করবেন। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তিন ধাপের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
ডোগুর আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্তো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কাজের রূপরেখা তৈরির অংশ হিসেবেই এই সফর। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লরা ডোগু বর্তমানে কলম্বিয়াভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার কারাকাসে পৌঁছানোকে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহার করে নেয় এবং কারাকাসে দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলা সফর করে।
এর আগে বুধবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, লরা ডোগু ভবিষ্যতে কারাকাস থেকেই নেতৃত্ব দেবেন এবং খুব দ্রুত ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি গড়ে তোলা হবে।
এই সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানায়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে অস্থায়ী কোনো কূটনৈতিক স্থাপনা চালুর বিষয়টিও রয়েছে।
এদিকে সিআইএও ভেনেজুয়েলায় স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় নিজের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়াতে তৎপর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটির তেল উৎপাদনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য তেল খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে আইনি পরিবর্তন, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির লক্ষ্যে সাধারণ ক্ষমা আইন প্রস্তাব এবং একটি কুখ্যাত আটককেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা রয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ভেনেজুয়েলায় আটক সব মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আরআই/টিকে