ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেত্রী টাবু। পর্দায় তার সংযত অথচ তীব্র উপস্থিতি দর্শককে বারবার মুগ্ধ করেছে। তবে এই আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীনচেতা শিল্পীর শৈশব মোটেও সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের ভাঙা সম্পর্ক, নীরব দূরত্ব আর একাকিত্বের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি।
মাত্র তিন বছর বয়সে টাবুর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর বাবার সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। শৈশব থেকেই এই বিচ্ছিন্নতা, নীরব সহনশীলতা এবং আত্মনির্ভরশীলতা টাবুর ব্যক্তিত্বে গভীর প্রভাব ফেলেছে। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, বাবার অনুপস্থিতিই তাকে ধীরে ধীরে স্বাধীন চিন্তাশীল মানুষ করে তুলেছে।
পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে টাবু জানান, ‘আমার শৈশব খুব ভালো কেটেছে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দাদু-দিদার সঙ্গে থাকতাম। আমার মা শিক্ষিকা ছিলেন যার ফলে দিদার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি।’
একই সাক্ষাৎকারে টাবু ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি কখনো বাবার পদবি ‘হাশমি’ ব্যবহার করেননি। তার কথায়, ‘আমি কখনোই মনে করিনি বাবার পদবি ব্যবহার করা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমার নাম ছিল তাবাস্সুম ফাতিমা। স্কুলে ফাতিমাই ছিল আমার পদবি।’
বাবার সঙ্গে মানসিক দূরত্ব নিয়ে স্পষ্টভাবে তিনি জানান, ‘বাবার সঙ্গে আমার কোনো স্মৃতি নেই। আমার বোন মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে দেখা করেছে, কিন্তু আমার কখনো ইচ্ছে হয়নি। তার সম্পর্কে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি যেভাবে বড় হয়েছি, তাতেই আমি খুশি।’
বিবাহবিচ্ছেদের পর টাবুর বাবা পুনরায় বিয়ে করেন। সেই সংসারে তার দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে টাবু বরাবরই সামাজিক চাপ এড়িয়ে চলেছেন। অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি অকপটভাবে বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা আমাকে কখনো বিরক্ত করেনি। মানুষ কেন এটাকে এত বড় বিষয় করে, আমি বুঝি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারও মূল্যায়ন করার মানদণ্ড তার বৈবাহিক অবস্থা হতে পারে না। আমি কাউকে এভাবে বিচার করি না আর কেউ যদি আমাকে করে তাতে আমার আগ্রহ নেই।’
অভিনয় জীবনে বেশ সক্রিয় টাবু। সামনে মুক্তি পেতে চলেছে বিজয় সেতুপতির সঙ্গে পুরী জগন্নাথ পরিচালিত একটি প্যান-ইন্ডিয়া প্রজেক্ট। এছাড়াও অক্ষয় কুমারের বিপরীতে প্রিয়দর্শনের হরর কমেডি ‘ভূত বাংলো’তেও দেখা যাবে তাকে। দুটি ছবিই এ বছর মুক্তির কথা রয়েছে।
এমআই/এসএন