সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালের পর বিকেলেও সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন নেমে এসেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকায়।
সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম ওই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো হয়েছে।
সকাল বিকেল দাম কমার কারণ প্রসঙ্গে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন বন্ধ থাকলেও দেশের বাজার খোলা ছিল। চাহিদা কম থাকায় গতকাল রাতে দাম কমানো হয়েছে। এরপর আজকে আন্তর্জাতিক বাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে প্রতি আউন্সে ২০০ ডলারের মতো দরপতন হয়েছে। পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি ও সামগ্রিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বৈঠক করে দাম পুনরায় সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার লেনদেন বন্ধ ছিল। সোমবার বাজার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭৬৫ ডলারে নেমে এসেছে। শনিবার লেনদেন শেষে যা ছিল ৪ হাজার ৮৯৩ ডলার। তার আগে শুক্রবার ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং বৃহস্পতিবার ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।
সোমবার সকালে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।