স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) টিআইবিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন আগের নির্বাচনে কতজন করে মারা গেছে। টিআইবির রিপোর্ট আমি না করবো না।’
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও কোস্টগার্ডে সদর দপ্তরে আয়োজিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।
টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা–কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এতে ভোট কোনো চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, টিআইবির রিপোর্ট আমি না করবো না। টিআইবিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন আগের নির্বাচনে কতজন করে মারা গেছে।
তিনি বলেন, সংঘাত হয়েছে, নিজেদের ভেতর হচ্ছে, আপনাদের নিজেদের ভেতর মারামারি শুরু করে দিলে, এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সময় কন্ট্রোল করা ডিফিকাল্ট। আপনারা এখানে মারামারি শুরু করে দিলেন আমি যেতে যেতেই তো সময় শেষ হয়ে যায়; এ রকম হচ্ছে। দুই-চারটা যে হচ্ছে না তা না। কিন্তু অন্যান্য যে কোনো বারের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক ভালো। সবাই এখন নির্বাচনমুখী। আগের নির্বাচনের সঙ্গে যদি তুলনা করেন আমি বলবো আল্লাহই দিলে পরিস্থিতি অনেক ভালো।
সহিংসতা বাড়ছে কি না? প্রশ্নে তিনি বলেন, সহিংসতা বাড়ছে না, সহিংসতা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অলরেডি মাঠে চলে গেছে। জনগণকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। দেখবেন এক ভাই আরেক ভাইকে একটু কথা বললেই সহ্য করতে পারে না। সবাইকে ধৈর্য বাড়াতে হবে।
৫ আগস্টের পর সুন্দরবন জলদস্যুদের হাতে চলে গেছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ভোটকেন্দ্র কোনোভাবে প্রভাবিত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুন্দরবন জলদস্যুদের হাতে চলে গেছে বক্তব্য সঠিক না। সুন্দরবন জলদস্যুদের হাতে চলে গেলে এত ট্যুরিস্ট যেতে পারতেন না। সুন্দরবন আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণ আছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বহু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
সহিংসতার ঘটনা নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ হবে কি না জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসমুখরভাবে হবে। সবার সহযোগিতা দরকার।
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্টগার্ড সদস্যকে পদক দেওয়া হয়।
এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পিএ/টিকে