অভিনেত্রী শকুন্তলা বড়ুয়ার কন্যা রাজশী বড়ুয়াকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা আশিষ বিদ্যার্থী। দীর্ঘ সময় সংসার করার পর তাদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নিয়েছে একটি সন্তান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, যার পরিণতিতে আসে বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের পর আশিষ নতুন অধ্যায় শুরু করলেও, পুরনো সম্পর্কের স্মৃতি আজও সম্পূর্ণ মুছে যায়নি, এমনই জানালেন শকুন্তলা বড়ুয়া।
সম্প্রতি ‘ক্লিপ স্টুডিয়ো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শকুন্তলা বলেন, রাজশী ও আশিষের সম্পর্ক আজও সম্মানের। তাঁর কথায়, “আশিষের সঙ্গে এখনও রাজশীর খুব ভালো সম্পর্ক আছে।” এমনকি সম্প্রতি আশিষ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে, শকুন্তলাই প্রথমে তাঁর খোঁজ নেন। ফোনে আশিষ জানান, তিনি ও বর্তমান স্ত্রী রূপালি দু’জনেই ভালো আছেন।
বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে শকুন্তলা জানান, দু’জনের জীবনদর্শনের পার্থক্যই মূল সমস্যা ছিল। তিনি বলেন, “ছেলেকে পুরোটা রাজশীই মানুষ করেছে। আশিষ সবসময় চাইত রাজশী তাঁর সঙ্গে থাকে, তাঁর মতো করে চলুক। কিন্তু রাজশী নিজের মতো করে জীবন ও ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিল। শুধুই সংসার এই জীবন ও আর চাইছিল না।”
শকুন্তলা আরও উল্লেখ করেন, বিচ্ছেদ দু’জনের জন্যই যন্ত্রণার ছিল। আলাদা হওয়ার আগে রাজশী কাঁদতে কাঁদতে জিনিসপত্র গুছাচ্ছিলেন, সেই সময় তিনি ইচ্ছা করেই ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি। তবে একটি মুহূর্ত আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে। শকুন্তলা বলেন, “একদিন ওঁরা দু’জনে আমার কাছে এসেছিল। আমি খাটে বসে, রাজশী পাশে। আশিষ মাটিতে বসে আমার পা ধরে কাঁদছিল। বলছিল, ওকে বারণ করতে। কিন্তু আমি বুঝেছিলাম, এই সিদ্ধান্ত রাজশীর নিজের।”
সবকিছুর পরেও সম্পর্কের উষ্ণতা পুরোপুরি ফুরোয়নি বলেও জানান শকুন্তলা। আজও আশিষ মাঝে মাঝে ভোরবেলা কচুরি নিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হন এবং ‘দেবীদি’ বলে পাশে বসেন। তাই বিচ্ছেদ হলেও সম্পর্কের টান এখনো অটুট এটাই বোঝাতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।
প্রসঙ্গত, রাজশীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালের ২৫ মে অসমের মেয়ে রূপালি বড়ুর সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আশিষ বিদ্যার্থী।
এমকে/টিএ