দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার উপকূলের পরিচিত মুখ ‘আফ্রিকান পেঙ্গুইন’ এখন চরম বিপদের মুখে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৩০ বছরে এদের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ১০ হাজার জোড়া প্রজননক্ষম পেঙ্গুইন টিকে আছে।
সংকটের মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে খাবার সংকট ও অনাহার।
পেঙ্গুইনদের প্রধান খাবার হলো সার্ডিন ও অ্যাঙ্কোভি মাছ। কিন্তু অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রে এই মাছের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে খাবারের অভাবে পেঙ্গুইনরা শুকিয়ে যাচ্ছে। ৪ কেজি ওজনের একটি পেঙ্গুইনের ওজন এখন ২ কেজির নিচে নেমে এসেছে।
খাবারের অভাবে পেঙ্গুইনরা অনেক সময় সমুদ্রের পাথর গিলে ফেলছে, যা তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ছাড়া শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ায় এদের পালক বদলানোর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে।
সমুদ্রের তেলদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, বার্ড ফ্লু এবং জাহাজ চলাচলের শব্দও এদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ছয়টি এলাকায় আগামী ১০ বছরের জন্য মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘স্যানকব’ নামের একটি সংস্থা অসুস্থ পেঙ্গুইনদের চিকিৎসা দিচ্ছে এবং কৃত্রিমভাবে পেঙ্গুইন কলোনি তৈরি করে এদের বংশবৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বড় কোনো পদক্ষেপ না নিলে এই বিরল প্রজাতির পেঙ্গুইন পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। এটি শুধু পেঙ্গুইনের ক্ষতি নয়, বরং পুরো সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যই একটি বড় সংকেত।
সূত্র : সিএনএন
এমআই/এসএন