সাড়ে তিন বছর আগে গ্লাসগোর জিএইচকে ক্রিকেট ক্লাবের অনুশীলনের সময় এক কিশোর বেড়ার ওপর দিয়ে উঁকি মেরে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন। সেই ছোট্ট আগ্রহ আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে। ১৯ বছর বয়সী জাইনুল্লাহ ইহসান এখন স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের পেস বোলিংয়ের অন্যতম ভরসার নাম।
আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া ইহসান মাত্র ১৩ বছর বয়সে একা বাড়ি ছাড়েন। এশিয়া ও ইউরোপের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুই বছর পর স্কটল্যান্ডে বড় ভাইয়ের কাছে পৌঁছান তিনি। সেখানে ‘গার্ডিয়ানশিপ স্কটল্যান্ড’ নামক একটি সংস্থার সহায়তায় আশ্রয় পান ইহসান। টেনিস বলে ইলেকট্রিক্যাল টেপ জড়িয়ে ‘টেপবল’ ক্রিকেট খেলে বড় হওয়া ইহসান যখন প্রথমবার ক্রিকেট নেটে বল করেন, তখনই নজর কাড়েন সবার।
ইহসানের এই বিশ্বকাপ যাত্রা যেন এক অলৌকিক ঘটনা। বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করায় এবং স্কটল্যান্ড শেষ মুহূর্তে ডাক পাওয়ায় সিনিয়র দলের দরজা তার জন্য খুলে যায়। ইহসান সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ বয়কট করার পর আমি সারাদিন ফোন হাতে অপেক্ষায় ছিলাম। হেড কোচ যখন ফোন করে বললেন ‘অভিনন্দন’, পরের অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। সঙ্গে সঙ্গেই আফগানিস্তানে বাবা-মাকে ফোন করি।’’
সম্প্রতি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল স্কটল্যান্ড। ভিসা জটিলতার কারণে ইহসান খেলতে না পারলেও তার শৈশবের নায়ক রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী এবং হামিদ হাসানের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। স্বদেশী তারকাদের সঙ্গে আড্ডা দিলেও নিজের পরিচয় নিয়ে ইহসান স্পষ্ট, ‘‘আফগানিস্তানে আমার জন্ম, কিন্তু স্কটল্যান্ডই আমার দেশ। এই দেশ আমাকে সম্মান দিয়েছে, আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে।’’
গত বুধবার নামিবিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইহসানের অভিষেক হয়। অবশ্য সেই ম্যাচে বেশ খরুচে বল করেছেন তিনি। ৪৯ রানে নেন ১ উইকেট। ম্যাচ শেষে নিজের বোলিং নিয়ে তার অসন্তুষ্টিই বুঝিয়ে দেয় তিনি কতটা লড়াকু এবং শেখার জন্য কতটা ক্ষুধার্ত। স্কটল্যান্ডের সহকারী কোচ গর্ডন ড্রামন্ডের মতে, ইহসানের ইয়র্কার, স্লোয়ার এবং বাউন্সার দেওয়ার ক্ষমতা তাকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য একজন দক্ষ বোলার হিসেবে গড়ে তুলেছে।
আরআই/টিকে