নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে।’ দেশের সব আসনে বাকি ব্যালট পেপার আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘১১৬টি সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসারদের কাছে আমরা ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকি ব্যালটগুলো আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছে দিতে পারব ইনশআল্লাহ।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের সামনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব এ তথ্য জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের প্ল্যান এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আমরা যেটুকু আমাদের প্রস্তুতি আছে, সেটুকু বলেছি।
আজকে বলেছি, আমরা ১১৬ আসনে ব্যালট পাঠিয়েছে। বাকি ব্যালটগুলো ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চলে যাবে।’
ইসি সচিব বলেন, ‘তারা মূলত নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আমরা যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, এ ব্যাপারে তাদের কিছু কৌতূহল ছিল। সে বিষয়ে উনারা আপনাদের ব্রিফও করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, ব্যালট পেপার পাঠাতে এত বিলম্ব হলো কেন? কারণ কয়েকটা জায়গায় আমাদের ব্যালট পুনঃমুদ্রণ করতে হয়েছে। শেষ সময়ে কিছু প্রার্থীদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে। আদালতের নির্দেশের কারণে কয়েকটা জায়গায় আমাদের ব্যালট রিপ্রিন্ট করতে হয়েছে বা চেঞ্জ করতে হয়েছে। সেই কারণে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছিলেন, আমরা বলেছি সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে।
আট দিন আনসার থাকবে। পুলিশ অলরেডি মাঠে আছে। সেনাবাহিনীও অলরেডি মাঠে আছে।’
ইসি সচিব জানান, ১ হাজার ৫০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটস (ডেপ্লয়েড) মোতায়ন করা হচ্ছে। তারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মূলত মোবাইল কোড পরিচালনার জন্য।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ডেপ্লয়মেন্ট এখনো পাওয়া যায়নি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ডেপ্লয়মেন্ট হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই সাত দিন তারা মাঠে থাকবে। এ ছাড়া ইলেকট্রোরাল এনকয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি অলরেডি মাঠে আছে।
ইসি সচিব আরো জানান, আর নির্বাচনের রাজনৈতিক দলের প্রচার প্রচারণা বন্ধ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে।
পোস্টাল ভোটের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ১ লাখ ৭ হাজার, ১৬৮টি ব্যালট পোস্টাল পৌঁছেছে। বাংলাদেশের মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট পৌঁছেছে। ব্যালট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।’
কারাবন্দি ৬ হাজার ৯১ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন করেছেন। আর কারাগারে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।
এমআর/টিকে